প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক

বাংলাদেশে আর্থিক খাতে আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এনআরবি গেøাবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদার বাংলাদেশে আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের একজন। ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান, পরে কানাডায় পাড়ি জমান। এরপর আত্মসমর্পণ করবেন এমন খবরও গণমাধ্যমে এসেছিল। কিন্তু তাকে দেশে আনা হয়নি বা আনা যায়নি। ভারতে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর অনেক বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বলেছেন, পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের জন্য এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থাকে (ইন্টারপোল) দুদক চিঠি দিয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা বলেছেন, পি কে হালদারের কাছ থেকে সম্পদ ও টাকা উদ্ধার করে পঙ্গু হয়ে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিলে সেগুলো কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা মনে করি, এটি আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। সবাই বলছেন, পি কে হালদারের গ্রেপ্তার দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের জন্য একটা ভালো সংকেত। এর ফলে কেউ অর্থ আত্মসাৎ করে বুক ফুলিয়ে চলার সাহস করবে না। পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনিয়োগ করে যারা সর্বস্বান্ত হয়েছেন, আগে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আর্থিক খাতের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ৩৫টি মামলা করেছে দুদক। অস্তিত্বহীন ৩০ থেকে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণের নামে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড ও পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এখন ন্যূনতম দুর্বলতা কিংবা সহানুভ‚তি দেখানোর সুযোগ নেই। এমন হলে অর্থ আত্মসাতের অভিযুক্তরা প্রশ্রয় পাবে এবং তাতে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ছোট-বড় অনেক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। কত টাকার অঙ্ক হলে কেলেঙ্কারি ছোট, কত টাকার অঙ্ক হলে তা বড়, তার মাপকাঠি কেউ বলতে পারবেন না। কোনো সন্দেহ নেই যে, বড় হোক আর ছোট হোক, অধরাই থেকে যাচ্ছেন কেলেঙ্কারির মূল হোতারা। কয়েকটি বড় জালিয়াতির হোতা হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা এখনও দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখন পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচার করা গেলে আর্থিক খাতে সুশাসন ও ন্যায্যতা ফিরতে পারে। আমরা মনে করি, সব আর্থিক কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অর্থ লোপাট বন্ধ করা সম্ভব।