প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পীরগঞ্জে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভেষজ মিউজিয়াম

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদাসীনতা ও পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হচ্ছে উপজেলা চত্বরের ভেষজ মিউজিয়াম। তবে উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভেষজ মিউজিয়ামকে রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে ফান্ড চাওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তা দেলদার হোসেনের উদ্যোগে ভেষজ মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়। সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রায় ২০০ ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মিউজিয়ামের যাত্রা শুরু হয়। এরপর কৃষি দফতর বিভিন্ন স্থান থেকে দুর্লভ প্রজাতির আরও কিছু গাছ সংগ্রহ করে রোপণ করে। সব মিলিয়ে মিউজিয়ামে ৩৫৫টি গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে হরীতকী, বহেরা, আমলকী, নিম, নিসিন্দা, আকন্দ, অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, বাসক, অশোক, নগেশ বর, কালমেঘ, ওলটকম্বল, অর্জুন, রক্তচন্দন, কুমারী, পাথরকুচি, নয়নতারা, দন্তমূল, অনন্তমূল, ঘৃত কাঞ্চন, কদবেল, করমচা, চালতা, জারঞ্ছল, ডেউয়া, বিলাতি গাব, কাজুবাদাম, ছাতিম, শিমুল, সজিনা, অন্যতম।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে দৃষ্টিনন্দন স্থানে গড়ে তোলা এ মিউজিয়ামের প্রতিটি গাছে প্রকৃত জাত লিখে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে কৃষি বিভাগের উদাসীনতা ও পরিচর্যার অভাবে মিউজিয়ামটি  বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে মিউজিয়ামে গাছ আছে একশর মতো।

আব্দুল করিম সরকার নামে স্থানীয় একজন জানান, ভেষজ উদ্ভিদের গুণাগুণ লিখে শেষ করা যাবে না। কিন্তু অযতœ অবহেলায় জেলার একমাত্র ভেষজ মিউজিয়ামের গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা দুঃখজনক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীচ চন্দ্র ঘোষ জানান, গাছগুলো সুরক্ষার জন্য প্রাচীর নির্মাণের জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে গাছগুলো রক্ষার জন্য চারদিকে ঘেরা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে যে সব প্রজাতির গাছ নষ্ট হয়েছে নতুন করে তা রোপণ করা হবে।