মার্কেটওয়াচ

পুঁজিবাজারকে ব্র্যান্ডিং অবস্থানে নিতে সুশাসন জরুরি

ডিএসই, সিএসইকে ব্র্যান্ডিং অবস্থানে নেওয়ার প্রতাশ্যা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্র্যান্ডিং তো অনেক পরের কথা। এ অবস্থানে যেতে অনেক সময় লাগবে। বাজারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জসহ আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে সুশাসনের অভাব রয়েছে। এটাই হচ্ছে বাজারের মূল সমস্যা। কীভাবে বাজার ব্র্যান্ডিং হবে? যেখানে আইন আছে, কিন্তু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। যাদের বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা, তারা সঠিকভাবে ভূমিকা পালন করে না, স্পন্সরসহ বিনিয়োগরীরা শেয়ার কেনাবেচায় বিভিন্নভাবে কারসাজিতে ব্যস্ত থাকেন। ব্র্যান্ডিং হতে হলে অবশ্যই সুশাসন থাকতে হবে, আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এবং অর্থনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বাজারে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে না। যেটা আশা করেছিলাম, সেটা হচ্ছে না। বাজারে এখন বেশি আলোচিত হচ্ছে তারল্য সংকট এবং আস্থার অভাব। আসলে এ দুটির সমন্বয়ে বাজার ভালো হওয়া নির্ভর করে। এখন মানি মার্কেটে তারল্য সংকট রয়েছে। তবে এ বছর এ সংকট বেশি হতে পারে। কারণ এবার বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়া হবে। আবার খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। সব মিলিয়ে বাজারে কয়েক মাস ধরে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে এটা সত্য। তবে এটাও ঠিক যদি বাজার এখন স্থিতিশীল অবস্থানে যায় তখন কোথা থেকে টাকা আসবে, আপনি জানবেন না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিএসই, সিএসইকে একটি ব্র্যান্ডিং অবস্থানে নেওয়ার প্রতাশ্যা করছে। আসলে ব্র্যান্ডিং তো অনেক পরের কথা। এ অবস্থানে যেতে অনেক সময় লাগবে। বাজারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জসহ আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে সুশাসনের অভাব রয়েছে। এটাই হচ্ছে বাজারের মূল সমস্যা। কীভাবে বাজার ব্র্যান্ডিং হবে? যেখানে আইন আছে, কিন্তু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। যাদের বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা তারা সঠিকভাবে ভূমিকা পালন করে না, স্পন্সরসহ বিনিয়োগারীরা শেয়ার কেনা-বেচায় বিভিন্নভাবে কারসাজিতে ব্যস্ত থাকেন। সেটি দেখার জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকে, ভালো মানের কোম্পানি এবং নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আনার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এছাড়া বাজারের কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। ব্র্যান্ডিং হতে হলে অবশ্যই সুশাসন থাকতে হবে, আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তাহলেই না সেসব প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যান্ড বলা যায়। একটি প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যান্ডিং করতে যে উপাদানগুলো দরকার তা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছি। তাহলে কী দেখে সাধারণ ও বিদেশি বিনিয়োগকারী আসবে।
অধ্যাপক ড. মুসা বলেন, বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কমে যাচ্ছে কারণ তারা আস্থা পাচ্ছে না। পুঁজিবাজার দুই থেকে তিন বছর ধরে তেমন কোনো প্রফিট হচ্ছে না। আমরা জানি, পুঁজিবাজার একটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। তাই ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রফিট দিতে হবে। কিন্তু এখানে সেটা দেখা যায় না। পুঁজিবাজার শুধু ইকুইটিনির্ভর। যখন একজন বিনিয়োগকারী ইকুইটিতে বিনিয়োগ করে লোকসান করেন, তখন সেই লোকসান পূরণের জন্য বিপরীতে কোনো ভালো পণ্য নেই। বাজার ভালো করতে চাইলে নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। যদি সেটা না পারে তাহলে বাজার যে অবস্থানে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা, সেটা সম্ভব নয়। তবে উত্থান-পতনের সময় বাজার স্থিতিশীল রাখা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাফেট হতে হবে। পাঁচ থেকে ছয় বছর বিনিয়োগ করে রাখেন, দেখবেন এমনিতেই মুনাফা হবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..