নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, পুঁজিবাজার সংস্কারের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের প্রধান তিনটি বড় কাজ সম্পন্ন করেছি। যার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আইপিও আসার পথ সুগম হয়েছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে এই সভা শুরু হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক গঠিত বিএসইসিকে অধিকতর শক্তিশালীকরণ ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও পুঁজিবাজারের অংশীজনদের মধ্যে পঞ্চম মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের কাজ করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। সমাধানের জন্য সবাইকে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অংশীজন সভা এ কারণেই এবং এ ধরনের একটি কার্যকর মেকানিজম চালু করতে পেরেছি বলে আমি সন্তুষ্ট।’
তিনি সকলের সহযোগিতা ও মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমাপ্ত বছরে পুঁজিবাজার সংস্কারে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ‘মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫; মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ এই তিনটি রুলস পুঁজিবাজার সংস্কারের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান তিনটি অর্জন। ২০২৫ সালের মধ্যেই আমরা এসব কাজ সম্পন্ন করেছি, যার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের আইনি সংস্কারের বড় অংশ শেষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারের হƒৎপিণ্ড হচ্ছে আইপিও। ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’-এর মাধ্যমে নতুন আইপিও আসার পথ সুগম হয়েছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার এখনই করতে হবে এবং এজন্য বাজার সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’ পুঁজিবাজার সংস্কারে প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সহায়ক ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম, পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, নতুন পণ্য চালু, রোড শো আয়োজন, ব-কণঈ-এর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ ও অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, এপিআই কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ, মার্জার ও একুইজিশন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ, সিসিবিএলের রেজিস্ট্রেশন ও অপারেশনে আনয়ন, মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যপরিধি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও স্বার্থরক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সিডিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেবসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post