দিনের খবর শেষ পাতা

পুঁজিবাজারে আবারও বড় দর সংশোধন

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে মাত্র তিন কার্যদিবসের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের দর সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। তিন কার্যদিবস আগে একদিনের সূচকের পতন ঘটে ৯৪ পয়েন্ট বা প্রায় দুই শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকালও সূচকের একই ধরনের পতন হয়েছে। দিন শেষে সূচক কমেছে ৭৪ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়, তিন কার্যদিবস আগে সূচক ৯৪ পয়েন্ট হ্রাস পাওয়ার পরের দুই কার্যদিবসে বৃদ্ধি পায় মাত্র ২৪ পয়েন্ট। আর গতকাল তা ৭৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩০ শতাংশ। দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয় পাঁচ হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাজার আবার কারসাজি চক্রের ফাঁদে পড়েছে কি না, তা নিয়ে ভীত রয়েছেন তারা। অর্থাৎ বাজার নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
জানতে চাইলে রাসেল আহমেদ নামে একজন বিনিয়োগকারী বলেন, কিছুদিন আগেও পুঁজিবাজার নিয়ে আমাদের ভাবনা অন্য রকম ছিল। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকবে, এমন চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, ততই বাজার পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। ফলে আমাদের পুঁজির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধন। পতনের জের ধরে গতকাল উল্লেখযোগ্যহারে কমে যায় বাজার মূলধনও। গতকাল দিন শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজার মূলধন কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। গতকাল দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন স্থির হয় চার লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকায়। এর আগের দিন যার পরিমাণ ছিল চার লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে পুঁজিবাজার নিয়ে এখনও নেতিবাচক ভাবনা ভাবার সময় আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজার এখনও স্বাভাবিক গতিতে রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের আরও ধৈর্যশীল হতে হবে। বাজারে স্বাভাবিক পতন হলেও তারা ধৈর্যচুত হয়ে পড়েন। সেল প্রেসার বাড়িয়ে দেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। তাদের এই মানসিকতা পরিহার করা দরকার।
জানতে চাইলে বিএসইসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বাজার নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে অনেক নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সবকিছু ফল পেতে একটা সময় লাগে। এর জন্য বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যশীল হওয়া দরকার। তারা যদি সামান্য কারণে প্যানিক হয়ে যান, তবে তা তার নিজের জন্য যেমন খারাপ হবে, তেমনি বাজারও তার স্বাভাবিক গতি হারাবে।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চাইলেÑসাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্ট ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, উত্থান-পতন পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক ঘটনা। তবে বাজারে সবসময় কোনো না কোনো গুজব থাকে। এসব গুজব এড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের নিজের বুদ্ধিমতো বিনিয়োগ করা উচিত। এতে তার নিজের পুঁজির সুরক্ষা হয়।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, কিছুদিন বাজার ভালো থাকায় এখন অনেকেই মুনাফা তুলছেন। সে কারণে বিক্রয় চাপ থাকা স্বাভাবিক। তবে এসব পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীরা ভয় পেয়ে কম দরে শেয়ার বিক্রি করে দেন। এটা ঠিক নয়। বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করা দরকার। তারা অকারণেই ভয় পান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..