দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পুঁজিবাজারে আসতে চায় ৯ বিমা কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে আসতে ৯ বিমা কোম্পানি আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (আইডিআরএ) শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। গতকাল রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশা আইডিআরএ কার্যালয়ে বিমা মেলা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পুঁজিবাজারে আসতে অতালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেই। এরপর ৯টি বিমা কোম্পানি এ পর্যন্ত আবেদন করেছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। তবে আরও ১৮ কোম্পানি এখন পর্যন্ত আবেদন করেনি। চলতি মাসেই আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবো। কেন আবেদন করেনি তা জানতে চাওয়া হবে বৈঠকে।’

যদিও কারা আবেদন করেছে, আর কারা করেনি তাদের নাম জানায়নি আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তবে সূত্রে জানা যায়, যে ৯টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে আবেদন করেছে সেগুলো সবই সাধারণ বিমা কোম্পানি। এগুলো হলোÑমেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, শিকদার ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।

এদিকে আইন মেনে পুঁজিবাজারে আসতে আবেদন না করা ১৮টি কোম্পানিই জীবন বিমা খাতের। পুঁজিবাজারে আসার পথে কোম্পানিগুলোকে অন্তত পাঁচটি বড় বাধা কাটিয়ে আসতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করতে হলে কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থাকতে হবে। দু’একটি ছাড়া আর কোনো কোম্পানির বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদনে সক্ষমতা নেই। বাকি কোম্পানিগুলোকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদন করতে হলেও ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। সে শর্ত পূরণেও হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানিগুলো। ওই ২৭ কোম্পানির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কোম্পানি পরিশোধিত মূলধন এখনও ২০ কোটির নিচে রয়েছে। এত কম সময়ে কোম্পানিগুলো কীভাবে কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের শর্তপূরণ করতে পারবেÑসেটা দায়িত্বশীল সবার চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে আসতে আরও সময় চাইছে ১৮ জীবন বিমা কোম্পানি। কারণ অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন ছাড়া ওই জীবন বিমা কোম্পানিগুলো আইপিও আবেদন করতে পারবে না। এজন্য ওই কোম্পানিগুলোকে আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পর ভ্যালুয়েশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাই আইনি-প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে কোনো কোম্পানিই নির্ধারিত সময়ে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমা খাতের বেশকিছু কোম্পানির করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি ও প্রতিশ্রুতি পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সে সঙ্গে আয়-ব্যয়ে অসংগতি ও তারল্য সংকটের কারণে কিছু কোম্পানি গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ করতে পারছে না। তাই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা গোপন রাখা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর কাছে জবাবদিহি এড়াতে আইন মেনে পুঁজিবাজারে আসছে না। এককালীন ও দৈনিক হারে জরিমানা গুনেও পুঁজিবাজারের বাইরে থাকছে।

বিমার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে কোম্পানিগুলোকে বিমা দাবি নিষ্পত্তিতে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, ২০১৮ সালে জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো মোট ছয় হাজার ৬১১ কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ওই সময় নতুন করে এক কোটি লোক বিমার আওতায় এসেছে। ফলে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি লোক বিমার আওতায় রয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালে বিমা খাতে প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে দেশের অর্থনীতির আকার হিসেবে প্রবৃদ্ধির এ হার যথেষ্ট নয় দাবি করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের এ চেয়ারম্যান জানান, ‘আমরা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি বিমার প্রিমিয়াম আয় বাড়াতে নতুন পণ্য আনার জন্য।’

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিমার সচেতনতা বাড়াতে এবার খুলনায় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন করবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। ২৫ জানুয়ারি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এবার মেলায় ৭৮টি বিমা কোম্পানি অংশ নেবে। এছাড়া বিমা খাত উন্নয়নে বিভিন্ন সভা সেমিনারের পাশাপাশি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী গ্রাহকসেবায় বিমা পক্ষ পালন করা হবে। এছাড়া মুজিববর্ষ বিমাবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইডিআরএর সদস্য গকুল চাঁদ দাস, বোরহানউদ্দিন, মোশারফ হোসেন, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বিএম ইউসুফ আলী প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..