প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পুঁজিবাজারে আসতে ২৭ বিমা কোম্পানিকে আইডিআরএ’র চিঠি

ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা

পলাশ শরিফ: অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২৭ বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। গতকাল সোমবার কোম্পানিগুলোকে আলাদা চিঠি দিয়ে এ নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি। নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে আসতে হবে কোম্পানিগুলোকে। নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ সময়সীমা বেঁধে দেওয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বিমা খাত-সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা, লোকসান ও পর্যাপ্ত পরিশোধিত মূলধন জোগানে ব্যর্থতাসহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে নতুন-পুরোনো ২৮ বিমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারছে না।
এর জেরে এককালীন ১০ হাজার টাকা ও দৈনিক এক হাজার টাকা করে জরিমানা গুনছে কোম্পানিগুলো। বিদ্যমান জরিমানা এড়াতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির শর্ত শিথিলের জন্য আইডিআরএ’র হস্তক্ষেপও চেয়েছে কোম্পানিগুলো। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর তালিকাভুক্তির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে আইডিআরএ।
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিমা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর পুঁজিবাজারের বাইরে থাকার সুযোগ নেই। এ কারণে ১৮টি জীবন বিমা কোম্পানি ও ৯টি সাধারণ বিমা কোম্পানিকে ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোম্পানি ওই নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে বিমা আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তথ্যমতে, বাংলাদেশে জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে ৭৮টি কোম্পানি ব্যবসা করছে। এর মধ্যে পুরোনো জীবন বিমা কোম্পানি হোমল্যান্ড, সানফ্লাওয়ার, বায়রা, গোল্ডেন ও সাধারণ বিমা কোম্পানি, দেশ জেনারেল, ইসলামী কমার্শিয়াল, ক্রিস্টাল, ইউনিয়ন, এক্সপ্রেস ও সাউথ এশিয়াসহ ১২টি বিমা কোম্পানি আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে পুঁজিবাজারে আসতে পারেনি। এছাড়া পুরোনোদের মধ্যে বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স নামেও একটি কোম্পানি রয়েছে, যারা সমবায় অধিদফতরের অধীনে। এই কোম্পানিটিও পুঁজিবাজারে আসতে পারেনি। তাছাড়া নতুন কোম্পানিগুলোর কোনোটাই নির্ধারিত সময়ে পুঁজিবাজারে আসতে পারেনি।
২০১৩ সালে জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে ১৫টি কোম্পানির নিবন্ধন দেয় আইডিআরএ। নতুন জীবন বিমা কোম্পানি আলফা ইসলামী লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, যমুনা লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, স্বদেশ লাইফ, সোনালী লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, বেস্ট লাইফ ও জেনিথ ইসলামী লাইফ এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর পার করেছে। বিমা আইন মেনে ২০১৮ সালের মধ্যেই ওই বিমা কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এ সময়ে কেবল সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স তালিকাভুক্তির অনুমতি চেয়ে বিএসইসির কাছে আবেদন করেছে। অপর কোম্পানি গার্ডিয়ান লাইফ তালিকাভুক্তির জন্য আইপিও প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন-পুরোনো সবগুলো বিমা কোম্পানিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আইনে নির্ধারিত সময় পার করেছে। তারপরও ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে পড়া বা তালিকাভুক্তির শর্ত পূরণের মতো অবস্থানে আসতে না পারা দুঃখজনক। ওই নির্দেশনার পর কোম্পানিগুলো শুধু জরিমানা বা অজুহাত দিয়ে দায় এড়াতে পারবে না। ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আইন মেনে পুঁজিবাজারে আসতে হবে। এতে কোম্পানিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও করপোরেট সুশাসনের চর্চা বাড়বে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা ইতিবাচক, এতে কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। তারা পুঁজিবাজারে এলে বিমা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।’
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে আসতে ২৮ বিমা কোম্পানিকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত না হলে লাইসেন্স স্থগিত করা হবে বলে হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এরপর তালিকাভুক্তির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইডিআরএ। পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা ২৭ কোম্পানিকে নির্দেশনা দিলেও সমবায় আইনে পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সকে কোনো নির্দেশনা দিতে পারেনি আইডিআরএ।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..