প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পুঁজিবাজারে আসবে বসুন্ধরা সিমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বসুন্ধরা সিমেন্ট পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে বলে জানিয়েছে গ্রুপটির কোম্পানি সচিব নাসিমুল হাই। তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে মেঘনা সিমেন্ট। বসুন্ধরা সিমেন্টও ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোতে ‘বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে নাসিমুল হাই এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা পেপারকে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, এক-দেড় বছরের মধ্যে বসুন্ধরা পেপার তালিকাভুক্ত হবে। এটি তালিকাভুক্ত হলে ভবিষ্যত বসুন্ধরা সিমেন্ট কোম্পানিও পুঁজিবাজারে আসবে।

সেমিনারে জানানো হয়, গত ৯ বছরে সিমেন্ট খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি। এখন দেশে মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে ১২৪ কেজি। মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার ৬০০ কেজি হওয়ার পর ফের রিকন্সট্র্যাকশনে আসে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে সিমেন্ট ব্যবসা আরও চার গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে অনলাইন বিজনেস নিউজপোর্টাল অর্থসূচকডটকম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং দেশের অর্থনীতি অগ্রসরমান। তাই জায়গা সংকটের কারণ আমাদের অবশ্যই বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে নগরায়ন বাড়ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভ্যাটেড এক্সপ্রেস, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ বিভিন্ন বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। এছাড়া অর্থনীতির সব সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ভবিষ্যতে সিমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, এটি নিশ্চিত। এজন্য সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বাড়তে হবে। আর উৎপাদন বাড়লে ব্যবসায়িক পরিধি বাড়বে।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শাহরিয়ার ইশতিয়াক হালিম, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাসুদ খান, বসুন্ধরা গ্রুপের কোম্পানি সচিব নাসিমুল হাই ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম তালুকদার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অর্থসূচক সম্পাদক জিয়াউর রহমান।

এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শাহরিয়ার ইশতিয়াক হালিম বলেন, বাংলাদেশে সিমেন্ট খাতের সম্ভাবনা প্রচুর। তবে কাঁচামাল আমদানি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভিআইআরএম ব্যবহার এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সিমেন্ট খাতের উন্নয়নের জন্য গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, রফতানি বাধা দূর এবং বৈদেশিক ঋণ সহজলভ্য করতে হবে।

লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাসুদ খান বলেন, গত ৯ বছরে সিমেন্ট খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এখন দেশে মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে ১২৪ কেজি। মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার ৬০০ কেজি হওয়ার পর ফের রিকন্সট্র্যাকশনে আসে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে সিমেন্ট ব্যবসা আরও চার গুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের কোম্পানি সেক্রেটারি নাসিমুল হাই বলেন, দেশের পাকা রাস্তাগুলো বিটুমিনের পরিবর্তে আরসিসি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার এটা করা হলে সিমেন্টের ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে। ফলে এ খাতের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।

প্রিমিয়ার সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের মাথাপিছু সিমেন্ট ব্যবহার অনেক কম। দেশের অর্থনীতির সব সূচক এগিয়ে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে সিমেন্ট ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে।