সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে ব্যবস্থা নিন

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সাধারণ ছুটির সঙ্গে দেশের উভয় বাজারের লেনদেনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে পুনরায় উভয় বাজারে লেনদেন শুরু হয়। এদিন ইতিবাচক প্রবণতায় শেষ হয় উভয় বাজারের লেনদেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল প্রথম লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে। বিশ্বের প্রায় সব দেশে করোনা হানা দিলেও কোনো দেশেরই শেয়ারবাজার এত দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল না। তাই আমরা মনে করি, দীর্ঘ সময় হোমওয়ার্ক করার সুযোগ পেয়েছে বর্তমান কমিশন।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগোতে হবে কমিশনকে। পূর্বসূরিদের ব্যর্থতা সীমাবদ্ধতা নিরূপণ করে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারসাজিতে জড়িতদের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। বন্ধ করতে হবে নানামুখী হস্তক্ষেপ।

শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন স্বাভাবিক এবং এটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশেও হয়ে থাকে। কিন্তু অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের মৌলিক তফাত এইÑতারা সচেতন হয় এবং পতন রোধে ব্যবস্থা নেয়। আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলেও তা তেমন সুফল বয়ে আনে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান। শেয়ারবাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে চাঙা রাখতে উদ্যোগ দেখা যায় না। আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারের নেতিবাচক প্রভাবই পড়ে আমাদের শেয়ারবাজারে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে পতন হলে আমাদের বাজারেও পতন হয়; কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজার ঘুরে দাঁড়ালে কিংবা চাঙা হলে আমাদের বাজার চাঙা হয় না।

শেয়ারের চাহিদা শক্তিশালীকরণ, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বৃদ্ধি, শর্ট সেল বন্ধ করাসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে এ খাতের বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বাজার পড়ে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন নড়েচড়ে বসে। এরপর কাজে ধারাবাহিকতা থাকে না; থাকে না নজরদারিও। ফলে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি সাময়িক মোকাবিলা করা গেলেও সমস্যা থেকেই যায়।

শেয়ারবাজার অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মানসম্মত ও লাভজনক করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে বাজারে তালিকাভুক্ত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।

শেয়ারবাজার শক্তিশালীকরণে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুঁজিবাজার বিশেষ ধরনের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এটির ভূমিকা যাতে আরও জোরদার করা যায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদেরও উচিত গুঞ্জন-গুজবে প্রভাবিত না হয়ে মেধা খাটিয়ে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা। শেয়ারবাজারে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে সর্বপেক্ষা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ অংশীজনের সমন্বিত পদক্ষেপ। সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই উদ্যোগী হতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..