প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পুঁজিবাজারে এগোতে হবে সতর্কতার সঙ্গে

দেশের অন্যতম পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টে ফিরেছে দীর্ঘ দুই বছর পর। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সূচক আগের তুলনায় ২৩ বেড়ে দিনশেষে উল্লিখিত পয়েন্ট অর্জন করে। এ বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা বড় আনন্দের সংবাদ। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে শ্লথ পুঁজিবাজার এর মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও গতি ফিরে পাবে। শেয়ার হাতবদল ও লেনদেনে এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়বে নিশ্চয়। এ ঘটনায় বোঝা যায়, ধীরগতিতে হলেও বাজারটি এগোচ্ছে স্থিতিশীলতার দিকে। তাতে বাজারে আগ্রহ বাড়বে বিনিয়োগকারীদের। এটা অর্থনীতির জন্যও সুসংবাদ। এখানে স্থিতিশীলতা ফিরলে তার ইতিবাচক প্রভাব যে অর্থনীতিতেও পড়বে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

বস্তুত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের প্রতি একসময় মানুষের যেমন আগ্রহ ছিল, নিকট অতীতের কিছু ঘটনায় তা অনেকটা কমে গেছে। অনেকের মতে, পুঁজিবাজার নিয়ে কয়েক বছর আগে যে কারসাজি হয়েছিল, এটা তারই ফল। আমাদেরও স্মরণ আছে, ওই সময় সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছিলেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী। ধারণা করা যায়, এ বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রধান সূচক বৃদ্ধিসহ দীর্ঘ সময় ধরে বাজার স্থিতিশীলতার বিষয়টি কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। কথায় বলে, অতিরিক্ত চুন খেয়ে মুখ পুড়লে মানুষ দই দেখলেও ডরায়। পুঁজিবাজারের এমন শুভ সংকেত বিনিয়োগকারীদের মনে যে শুধু উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, তা নয়। শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তারা বরং অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেছেন, অতীতে অনেক বার এরকম শুভ সংকেত এসেও বাজার থেমে গেছে। এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ অবশ্য নেই। এটা ঠিক, অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি বিনিয়োগকারীদের শুধু আশাহতই নয়, তাদের মনে কিছু প্রশ্নও জাগ্রত করবে। সেজন্য ওই রকম কিছু যাতে এবার না হয়, সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিতে ও সতর্ক থাকতে বলবো সংশ্লিষ্টদের।

অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের যে আকার, তাতে সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে সূচক আরও বাড়লে ক্ষতি নেই বলে মনে করেন তিনি। এ বিশেষজ্ঞের বক্তব্য থেকে অন্তত একটি ব্যাপারে আশ্বস্ত হওয়া যায়, আড়ালে শঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে না। সূচক বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারীর মনে যে প্রশ্ন জেগেছে, এ অর্থনীতিবিদের বক্তব্যে তারা আস্থা রাখবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। একই সঙ্গে চাইবো, এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে সতর্ক দৃষ্টি রাখুক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে কেউ যেন অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে ব্যাপারে তাদের নিবিড় তদারকি আমরা চাই।

গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশা করছেন, বাজারের এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। তাদের এমন প্রত্যাশা সঙ্গত। সত্যি বলতে, একই রকম প্রত্যাশা আমরাও করি। তবে চাইবো, বিনিয়োগকারীরা প্রতিটি শেয়ারের হাতবদল করুক সতর্কতার সঙ্গে। নিকট অতীতে বাজারে বিরাজমান অস্থিরতায় যে অভিজ্ঞতা তাদের অনেকে এরই মধ্যে অর্জন করেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটাও স্মরণে থাকুক তাদের। কেনাবেচার ক্ষেত্রে তারা যদি বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিভিন্ন মহল থেকে যেমন শঙ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যাবে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ‘ডে-ট্রেডার’ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসবেন বলেই প্রত্যাশা। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী বাড়লে এর মাধ্যমে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নয়, পুঁজিবাজারও উপকৃত হবে।