শেষ পাতা

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে মিউচুয়াল ফান্ড অপরিহার্য

সংশ্লিষ্টদের মতামত

নিজস্ব প্রতিবেদক:যে কোনো দেশের পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট কাটাতে মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব অপরিহার্য। বিশ্ব পুঁজিবাজারে মোট বাজার মূলধনের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মিউচুয়াল ফান্ড থাকলেও বাংলাদেশে তা পাঁচ শতাংশের কম। তাই এই খাত উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন সম্পদ ব্যবস্থাপ

তাদের অভিমত, মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) টাকা পুঁজিবাজারেই থাকে। কিন্তু কোনো কোম্পানি আইপিওতে এলে সে টাকা বাজার থেকে বের হয়ে যায়। সে জন্য পুঁজিবাজারে বেশি বেশি মিউচুয়াল ফান্ড আসা দরকার। পাশাপাশি এর গুরুত্ব বাড়ানো উচিত।

জানা গেছে, ভারতে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর বাজার মূলধনে মিউচুয়াল ফান্ডের অবদান ৪০ শতাংশ এবং সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে এর অবদান ৬০ শতাংশেরও ওপরে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা পাঁচ শতাংশের কম। মূলত যেসব বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখে না, তারা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে, যাতে বছর শেষে ভালো মুনাফার পাশাপাশি ক্যাপিটাল গেইনও করতে পারে।

এ বিষয়ে আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে আরও মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে আসা দরকার। বর্তমানে বাজার মূলধনে মিউচুয়াল ফান্ডের অবদান অনেক কম। যদিও কোনো দেশের পুঁজিবাজারের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডের অবদান অনেক বেশি। ফান্ড বাজারে এলে তা তারল্য সংকট কাটাতেও সাহায্য করে। এখানে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করার সুযোগ পান। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থের একটা অংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে বাজারে অর্থের জোগানও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে নতুন আইপিও এলে ওই টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে চলে যায়, যা মূলত পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট বৃদ্ধি করে। কিন্তু কোনো মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে এলে ওই অর্থ পুঁজিবাজারে পুনঃবিনিয়োগ করা হয়। ফলে তারল্য সংকট দূরীভূত হয়।

এ বিষয়ে এনএলআই সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শাহেদ ইমরান বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজারের অন্যতম চালিকাশক্তি। মিউচুয়াল ফান্ড যত বেশি আসবে, তত বাজারে তারল্য সংকট কমে যাবে। পাশাপাশি ভালো সম্পদ ব্যবস্থাপক অতীব জরুরি প্রয়োজন। বাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতিতে গত কয়েক বছর ধরে কেউই ভালো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। অন্তত যদি কোনো ফান্ডে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়, তাতে কেউই সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরে বিনিয়োগ করতে যাবে না।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আমি সব সময়ই ভালো সম্পদ ব্যবস্থাপকের কথা বলে আসছি। এখানে ভালো করা সম্ভব। কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ড গত বছরও ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে। যদি ভালো সম্পদ ব্যবস্থাপকরা এগিয়ে আসে, তারা নতুন আইপিওর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাজার মূলধনে মিউচুয়াল ফান্ডের অবদান আরও বাড়ানো যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আইসিবি’র যেসব মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে বিএসইসি কর্তৃক তাদের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করেছে, যা বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তাছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড উন্নয়নে এ মুহূর্তে প্রয়োজন খাতভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড এবং সূচকভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড।

সর্বশেষ..