প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পুঁজিবাজারে দৌরাত্ম্য কমছে না এইচআর টেক্সটাইলের

নাজমুল ইসলাম ফারুক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এইচআর টেক্সটাইল লিমিটেডের শেয়ারদর বাড়ছেই। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে হঠাৎ টানা দর বাড়ার কারণে কোম্পানিটিকে নোটিস দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নোটিসের জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে দর বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানানো হয়। তবুও শেয়ারদরে দৌরাত্ম্য কমছে না।

এদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রথম প্রান্তিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আয় কমতে দেখা গেছে। পাশাপাশি গত দুবছর ধরে মুনাফাও কমছে প্রতিষ্ঠানটির। মুনাফা ও আয়ে ভাটা পড়লেও শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী। শেয়ারদরে হঠাৎ দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বাড়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ৩৫ পয়সা।

এদিকে শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে গত ৮ ডিসেম্বর কোম্পানিটিকে নোটিস দেওয়া হয়। তখন কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা ৮০ পয়সা। ডিএসই’র নোটিসের জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। কোনো কারণ না থাকলেও নোটিসের পর ধারাবাহিকভাবে কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে।

পরবর্তী সময়ে ডিএসই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে আর কোনো ধরনের নোটিস বা কারণ জানতে চাওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩৪ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র ৯ কার্যদিবসের মধ্যে দুদিন শেয়ারদর কমেছে। অপর সাত দিনে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে আট টাকা ৭০ পয়সা। যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি সম্পর্কে ডিএসই একবার নোটিস দিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সে বিষয়ে কোনো খোঁজ নেয়নি। আর এ অবস্থায় দর বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু কোম্পানির শেয়ারদর হঠাৎ বাড়তে থাকে। এ ব্যাপারে ডিএসইর পক্ষ থেকে দায়সারা নোটিস দেওয়া হয়। যাতে বেশিরভাগ কোম্পানির দর বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করা হয় না। ফলে দর বাড়ার প্রকৃত কারণও উদ্ঘাটন হয় না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত, যেসব কোম্পানির শেয়ারদর হঠাৎ বাড়ে, তদন্তের মাধ্যমে তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা। এতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও বুঝে-শুনে আর্থিক ভিত্তি দেখে শেয়ারে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তারা।

এ সম্পর্কে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘যেসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, সেগুলোকে ডিএসই থেকে জানতে চাওয়া হয় যে, আপনাদের কাছে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না, যে কারণে কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। তখন প্রতিষ্ঠান থেকে জবাব দেওয়া হয়। যদি পরবর্তী সময়ে জানা যায় ওই কোম্পানির দর বাড়ার বিষয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে এবং তা কিছু লোক জেনে লাভবান হয়েছে, তখন ডিএসই তদন্ত করতে পারে। তাছাড়া যে কোনো কোম্পানির দর অস্বাভাবিক বাড়লে ডিএসই কারণ জানতে চাইতে পারে। অপরদিকে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়লে বিএসইসি যে কোনো মুহূর্তে তদন্ত করতে পারে’ বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন, ইতিহাস পর্যালোচনা করে নেওয়া উচিত।’ হুজুগের কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে এইচআর টেক্সটাইলের গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময়ই মুনাফা কমেছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে মুনাফা সামান্য কমেছে। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, পরের বছর যার পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তবে ২০১৩ সালে মুনাফার পরিমাণ বাড়লেও ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। কোম্পানির ২০১৩ সালে মুনাফার পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা পরের বছর কমে দাঁড়ায় চার কোটি ৯৯ লাখ টাকায় এবং ২০১৫ সালে আরও কমেছে। যার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি টাকা।

লভ্যাংশ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দুবছর ধরে কোম্পানির লভ্যাংশের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৩ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। ২০১৪ সালে লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ। ২০১৫ সালে তারা ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়।

কোম্পানিটি ১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তাদের মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫১ দশমিক শূন্য চার শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।