বিশ্ব বাণিজ্য

পুঁজিবাজারে ধস, ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের দরপতন

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ সম্প্রতি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ করেছে। এরপরই বিশ্ব পুঁজিবাজারে পতন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বিশ্বের প্রধান পুঁজিবাজার সূচকে বড় পতন দেখা গেছে। এদিন ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময়মূল্য এক দশকের মধ্যে সর্বনিন্মে পৌঁছায়। খবর: রয়টার্স।
বিশ্বের ৪৭ দেশের সার্বিক সূচক এমসিআই ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স গতকাল কমেছে দশমিক সাত শতাংশ। গত শুক্রবার ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর এ সূচক কমল প্রায় দুই শতাংশ। গতকাল ইউরোপের পুঁজিবাজার সূচক পয়েন্ট কমে আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিন্মে পৌঁছায়। স্টকস ৬০০ সূচক এদিন কমেছে দুই শতাংশের বেশি। এর আগে শুক্রবার সূচকটি হারায় আড়াই শতাংশ, যেটি ছিল ২০১৯ সালে সূচকটির সবচেয়ে খারাপ দিন। জাপান বাদে এশিয়ার সার্বিক সূচক কমেছে আড়াই শতাংশ। মার্কিন সূচকগুলোও ছিল নি¤œমুখী। এর মধ্যে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে দশমিক ৭৩ শতাংশ। নাসডাক সূচক কমেছে এক দশমিক ৩২ শতাংশ। এশিয়ার বাজারের মধ্যে জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে এক দশমিক ৭৪ শতাংশ। চীনের সাংহাই সূচক কমেছে এক দশমিক ৬২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে দুই দশমিক ৮৫ শতাংশ। এদিকে ভারতের সেনসেক্স সূচকও কমেছে এক দশমিক ১৩ শতাংশ। ইউরোপের প্রধান সূচকের মধ্যে লন্ডনের এফটিএসই সূচক কমেছে দুই দশমিক ১৯ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স কমেছে এক দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি কমেছে দুই দশমিক ২৬ শতাংশ।
এদিকে গত শুক্রবার চীনা পণ্যে মার্কিন শুল্কারোপের পর ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের বিনিময়মূল্য কমে ২০১০ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। মনে করা হচ্ছে, মার্কিন শুল্কের জবাব দিতে নিজেদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে চীন।
গত বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় নতুন করে ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্মার্টফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে যে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আছে, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। গত সপ্তাহে দুদেশের প্রতিনিধিদের সর্বশেষ বৈঠক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার টুইটারে ট্রাম্প নতুন করে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার ফলে কার্যত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব চীনা পণ্যেই শুল্ক বসতে যাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..