সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে সতর্ক হোন

২০১০ সালের বিপর্যয়ের পর প্রায় এক দশক ধরে কঠিন সময় পার করছে দেশের পুঁজিবাজার। ওই ঘটনায় হাজারো বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হওয়ার পরও এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বরং যে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল তা রয়েই গেছে। এখনও পুঁজিবাজারে বৈরী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এখন আরও একটি খারাপ খবর শুনতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। তালিকাভুক্ত ২২ শতাংশ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। জেড ক্যাটেগরির এসব কোম্পানির লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ ২২% কোম্পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শুরুতে ভালো অবস্থানে থাকলেও নানা কারণে আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে গেছে ওইসব কোম্পানির। ফলে কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হলে তাদের সব ধরনের সক্ষমতা থাকতে হবে। কারণ এর সঙ্গে হাজারো বিনিয়োগকারীর স্বার্থ জড়িত।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ফান্ডে যারা বিনিয়োগ করেন, তারা শেয়ার ও ইউনিট বিক্রির পাশাপাশি লভ্যাংশ প্রাপ্তির মাধ্যমে ক্যাপিটাল গেইন করতে চান। কিন্তু অপ্রত্যাশিত কারণে-অকারণে লভ্যাংশ ঘোষণা করে না অনেক কোম্পানি। লভ্যাংশ ঘোষণার সময় অনেক কোম্পানির বিরুদ্ধে কারসাজি করে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদেরই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তবে এটি নতুন কোনো ব্যাপার নয়। বিশেষত, জেড ক্যাটেগরির কোম্পানিগুলো এ ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করে আসছে। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এভাবে চলতে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বিনিয়োগকারীদের কষ্টের টাকা নিয়ে কোম্পানিগুলো কেন লভ্যাংশ দিতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে কারোর কোনো ইচ্ছাকৃত কারসাজি থাকলে সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। টাকা সংগ্রহ করে তারা সঠিকভাবে ব্যয় করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। পুঁজিবাজারে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলো দূরীকরণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষত ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে পারলে জেড ক্যাটেগরির কোম্পানির দৌরাত্ম্য কমে আসবে। এমন কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয় বেশি। তাই পুঁজিবাজারে তাদের কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়ার সুযোগ নেই। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে বিনিয়োগকারীদেরও আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। তাই কোম্পানির বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..