প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পুঁজিবাজারে নতুন ছয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তথ্যপ্রযুক্তির সব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাগ্রহণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর অংশ হিসেবে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এ অনলাইন পেমেন্ট চালুর ফলে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবাই খুব সহজেই ডিএসইর বিভিন্ন সেবা ও ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি বিএসইসির কমিশনার মো. আমজাত হোসেন ডিএসইর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।

বুক বিল্ডিং সিস্টেম সফটওয়্যার: অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর সফটওয়্যার উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর ধারাবাহিকতায় ডিএসই নতুন বুক বিল্ডিং সফটওয়্যার চালু করেছে। নতুন বুক বিল্ডিং সিস্টেম চালুর ফলে বুক বিল্ডিং সিস্টেমে আসা কোম্পানিগুলোর জন্য ডিএসইর খরচ অনেকাংশে কমেছে।

প্রত্যাশিত ডিএসই-মোবাইল: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তিগত সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য ২০১৪ সালের ২১ মার্চ বিশ্ব বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নাসডাক এবং ফ্লেক্সট্রেডের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের কাছে লেনদেনের সুবিধাকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিএসই মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের জন্য নতুন অ্যাপ ‘ডিএসই-মোবাইল’ চালু করে।  ডিএসই মোবাইল চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা সব কিছু জানতে পারছেন। এতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বেড়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ): ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পণ্যের বৈচিত্র্যতা আনয়নে নতুন প্রোডাক্ট এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ইটিএফ চালু করার জন্য সব প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ডিএসই সম্পন্ন করেছে বিএসইসি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড ইটিএফ ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

দেশজুড়ে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি কর্মসূচি: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দেশব্যাপী ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে জনগণকে আর্থিক বিষয়ে সচেতন করা হবে। এ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার জনগণকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও এর ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন করার বিষয় এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন-বিধির খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন। ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠিত হলে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজারে নতুন প্রোডাক্ট (অপশনস, ফিউচার, ডেরিভেটিভস ইত্যাদি) লেনদেনের পথ সুগম হবে, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এতে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবস্যা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথ সুগম হবে।

সূত্র : সংবাদ বিজ্ঞপ্তি