সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো জরুরি

২০১০ সালের বিপর্যয়ের পর থেকে প্রায় এক দশক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ওই ঘটনায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। তখন থেকে পুঁজিবাজারে যে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি মেলেনি এখনও। অবশ্য পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে আশানুরূপ ফল মেলেনি। এমনকি চীনা কনসোর্টিয়াম এ দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হলেও এর তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিন ধরেই ফের অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার। সূচকের টানা পতন উদ্বিগ্ন করে তুলেছে সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের। পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের পরিস্থিতি প্রত্যাশিত নয়।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘কেনা দরে শেয়ার বিক্রির অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লাভ বা লোকসানের হিসাব নয়, যে দরে শেয়ার ও ইউনিট কেনা ছিল আবার সেই দরে ফেরার প্রত্যাশায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। হতাশাগ্রস্ত হয়ে কেনা দরে গেলেই হাতে থাকা শেয়ার বা ইউনিট বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে বের হওয়ার অপেক্ষা তাদের। সম্প্রতি প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ১৮ পয়েন্টের বেশি কমছে ডিএসইর সূচক। এতে আতঙ্কে রয়েছেন সব ধরনের বিনিয়োগকারী। বিষয়টি উদ্বেগজনকই বটে। বিনিয়োগকারীরা এভাবে হতাশ হয়ে পড়লে তা পুঁজিবাজারের জন্য অশনিসংকেত বলে আমরা মনে করি।
২০১০ সালের ধসের পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এছাড়া সদ্য পাস হওয়া বাজেটে প্রণোদনা দেওয়ার পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু ফল মিলছে তার উল্টো। খবরেই বলা হয়েছে, বাজেটের পর ২১ কার্যদিবসের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচকের পতন হয়েছে ২৮৩ পয়েন্ট। এর মধ্যে ১৪ কার্যদিবসে সূচকের পতন হয়েছে, বাকি দিনগুলোতে ছিল উত্থান-পতন। অথচ পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বাজেটে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা শুরু থেকেই ইতিবাচকই বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। তারপরও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে কী কারণে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হওয়া উচিত নয়। অবশ্য কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা জেনে-বুঝে এবং পরিস্থিতি অনুধাবন করে পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করব। পাশাপাশি বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যাচ্ছে। জেড ক্যাটেগরি ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্যও রয়েছে। সার্বিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকার এবং বিএসইসিকেই সবার আগে উদ্যোগী হতে হবে বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..