দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পুঁজিবাজারে মন্দার হাওয়া ডিএসইর মুনাফায়

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ২০১০ সালে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ধসের পর দীর্ঘ মেয়াদে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুঁজিবাজার। পরিস্থিতি অনুকূলে আনার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ নানা পদক্ষেপ নিলেও তা কাজে আসেনি। ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাজার। বারবারই ব্যর্থ হয়েছে সব প্রচেষ্টা। চলমান এ পতনের হাওয়া লেগেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গায়ে। ধারবাহিকভাবে কমছে এ প্রতিষ্ঠানের মুনাফাসহ বেশিরভাগ সূচক।

ডিএসই’র মুনাফার দিকে তাকালে দেখা যায়, গত চার বছরে এ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমেছে ৩৭ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে ডিএসইর মুনাফা ছিল ১৩৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে তা নেমে এসেছে ৯৭ কোটি টাকায়। অন্যদিকে ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠাটির মুনাফা দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকায়। পরের বছর মুনাফা সামান্য বেড়ে ১২৩ কোটি টাকা হলেও ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে মুনাফায় আবারও ভাটা পড়ে। এ বছর মুনাফা হয় ১০৪ কোটি টাকা।

এদিকে মুনাফার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস)। গত কয়েক বছরের ইপিএস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ইপিএস ছিল ৬৬ পয়সা। পরের বছর তা সামান্য বেড়ে ৭৫ পয়সায় উন্নীত হয়। এর পরের বছর কমে ইপিএস। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৪ পয়সায়, পরের বছর যা নেমে আসে ৫৮ পয়সায়। সর্বশেষ আর্থিক বছরে (২০১৮-১৯) তা নেমে ৫৪ পয়সায় আসে। একই সময়ের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সম্পদও (এনএভিপিএস) কমে গেছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছর শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ১১ টাকা ৩৬ পয়সা। বর্তমানে তা ১০ টাকা ৭৫ পয়সায় নেমে এসেছে।

২০১৪-১৫ আর্থিক বছর থেকে ২০১৬-১৭ আর্থিক বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে আয়-মুনাফা কমায় ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের জন্য পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডিএসইর প্রধান আয়ের উৎস বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের কমিশন থেকে পাওয়া অর্থ। ২০১০ সালে ডিএসইর লেনদেন তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা পেরিয়ে যায়। তখন হাউসগুলোতে প্রতিদিন লেনদেন ছিল সন্তোষজনক। ফলে ডিএসইর আয়ও ভালো ছিল। পরবর্তীতে বাজার পরিস্থিতি মন্দা হলে ধীরে ধীরে লেনদেন কমে নেমে আসে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা, যার জের ধরে অন্যসূচকগুলো নি¤œমুখী হয়েছে।

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ডিএসইর মুনাফা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ লেনদেন কমে যাওয়া। কারণ লেনদেন থেকে পাওয়া কমিশন ডিএসই’র প্রধান আয়। ফলে লেনদেন কমে গেলে এমনিতেই আয়-মুনাফায় ভাটা পড়ে। তবে এ পরিস্থিতির জন্য আরও কিছু বিষয় দায়ী। ডিমিউচুয়ালাইজেশন হওয়ার পর বাজারে ভালো মানের কোম্পানি আসেনি। পাশাপাশি এখনও সুশাসনের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব কিছুর প্রভাব পড়েছে ডিএসই’র মুনাফায়। তবে এ পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) হওয়ার পর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে মুনাফামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় ডিএসই। এরপর থেকে ডিএসইর লভ্যাংশ নেওয়া শুরু হয় এর শেয়ারহোল্ডারদের। বর্তমানে ডিএসইর পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে এক হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের হিসাবে ডিএসই’র মোট শেয়ার সংখ্যা হচ্ছে ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..