প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

পুঁজিবাজারে মুনাফা অর্জনে ধৈর্যের বিকল্প নেই

রুবাইয়াত রিক্তা: দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে বড় হলেও সে অনুপাতে বড় হয়নি পুঁজিবাজার। আবার পুঁজিবাজার যে পরিসরের সে অনুপাতে লেনদেন হচ্ছে না। ১৬ কোটি মানুষের দেশে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২৯ লাখ ৬২ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশের কম। এদের মধ্যে কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী নিয়মিত লেনদেন করেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ডে ট্রেডার। আর এ ডে ট্রেডাররাই মূলত বাজারের নিয়ন্ত্রক। তাদের কারণেই বাজার স্থিতিশীল হতে পারছে না। সামান্য লাভ হলেই তারা শেয়ার বিক্রি করে দেন। তাদের কারণে প্রায়ই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে ৪৫ পয়েন্ট। ১৫৪টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪৪টির। অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দর। গতকাল লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণ পরই সূচকের পতন হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তা ইতিবাচক ধারায় ফেরে। দুপুর ১২টার পর চাঙা হতে থাকে বাজার। লেনদেনের শেষপর্যন্ত ইতিবাচক ধারায় ছিল বাজার। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বাজার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে। ব্যাংকিং খাতে নেতৃত্ব দেয় ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। আর আর্থিক খাতে নেতৃত্ব দেয় বিডি ফাইন্যান্স, আইপিডিসি, আইডিএলসি, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং।

গতকাল সূচকের উত্থানে ইউনাইটেড পাওয়ারের ভূমিকা ছিল ছয় পয়েন্ট, স্কয়ার ফার্মা সাড়ে পাঁচ, ব্র্যাক ব্যাংক সাড়ে তিন, লাফার্জ সুরমা তিন ও ন্যাশনাল ব্যাংক দুই পয়েন্ট। গতকাল ইউনাইটেড পাওয়ারের লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। বিডি ফাইন্যান্স ২২ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ২১ কোটি টাকা আর ন্যাশনাল ব্যাংক ২০ কোটি টাকা।

মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের অবদান ১৯ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ১৬ শতাংশ, আর্থিক খাত ১৪ শতাংশ, বস্ত্র খাত ১২ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের অবদান ছিল ১১ শতাংশ।

গতকাল ব্যাংক খাতে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১.৬৬ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১.৭৩ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ০.৮১ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। কারণ সময়ের সঙ্গে বাজার ওঠানামা করে। একই শেয়ারের সকালে এক দাম আবার দুপুরে আরেক দাম। আর তাই সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে। কেনাবেচার সঠিক সময় সম্পর্কে জানতে হবে। লাভ না হলে প্রয়োজনে সময় নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। তাতে লোকসানের ভয় থাকবে না। আর তাহলেই পুঁজিবাজারে টিকে থাকাটা অসম্ভব হবে না।

 

 

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..