সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজারে লেনদেন-খরা আস্থা অর্জনে ব্যবস্থা নিন

মাথাপিছু আয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়সহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে যে ইতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে, সেখানে আমাদের পুঁজিবাজার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখীই বলা যায়। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই সুখকর নয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দৈনিক লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাজার মূলধনের অন্তত
তিন-চতুর্থাংশে নিয়ে আসা এবং বাজার মূলধনের কমপক্ষে বিদেশি বিনিয়োগের লক্ষ্য স্থির করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারপূর্বক বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করে অংশীজনের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং এ অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষ্য ছিল ডিএসইর। এতে সাফল্যের পরিচয় দিতে পারেনি, সেটি উঠে এসেছে গতকাল শেয়ার বিজের ‘লেনদেন খরায় ভুগছে পুঁজিবাজার: ডিএসইতে হাজার কোটি টাকা লেনদেন নেই আট মাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে হাজার কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়েছে মাত্র ১২ কার্যদিবস। ডিএসইতে লেনদেন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে ঘুরপাক খাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দু-একদিন লেনদেন এর বেশি হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারি ডিএসইতে লেনদেন হতে দেখা যায় এক হাজার ২৪ কোটি টাকা।
বাজারের আকার অনুসারে ডিএসইতে গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হওয়া উচিত। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ালেও হাজার কোটির টাকার ওপরে লেনদেন চোখে পড়ে না।
পুঁজিবাজারে লেনদেন হ্রাস-বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি বিশ্বের সব বাজারেই হয়। কিন্তু তা সাময়িক। আমাদের পুঁজিবাজারে যে লেনদেন হচ্ছে, তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তারল্য সংকট দূর করতে না পারলে অবস্থার উত্তরণ বিলম্বিত হবে বলেই শঙ্কা।
ডিএসই প্রতিদিন আড়াই হাজার কোটি টাকা লেনদেন লক্ষ্য স্থির করেছে, অথচ দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে এটি দুঃখজনক। অবস্থার উত্তরণে ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটিও দৃশ্যমান নয়। কেবল লক্ষ্য নির্ধারণেই যেন সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। ২০১০ সালে দৈনিক তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর অন্তত ১০০টি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেটিও বাজারকে চাঙা করতে পারেনি।
বলা হয়ে থাকে, পুঁজিবাজার একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে না। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও যথাযথ ভূমিকা রাখে না বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করে, খ্যাতনামা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করে আপাতত বাজার চাঙা করতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কারণ পুঁজিবাজারের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে বিদেশি বিনিয়োগ।

সর্বশেষ..