মার্কেটওয়াচ

পুঁজিবাজার উল্টোদিকে ধাবিত হচ্ছে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

দেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে কিন্তু পুঁজিবাজার উল্টো দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের কোনো মিল নেই। আর এই অমিলের বেশ কিছু কারণ আছে। যেমন বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতায় বাজার সম্প্রসারিত হতে পারছে না। বাজার পরিস্থিতি এমন হওয়ার পেছনের একটি প্রধান কারণ হচ্ছে মানি মার্কেটে তারল্য সংকট। বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোতে অর্থ সংকট দেখা যাচ্ছে। তার ওপর আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি রেশিও নিয়ে ঘোষণার পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইআইডিএফ ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মো. সালেহ আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল।

মো. সালেহ আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে কিন্তু পুঁজিবাজার উল্টো নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের কোনো মিল নেই। আর এই অমিলের বেশ কিছু কারণ আছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতায় বাজার সম্প্রসারিত হতে পারছে না। বর্তমান বাজারের এমন পরিস্থিতি হওয়ার পেছনে আরেকটি বিশেষ কারণ হচ্ছে, মানি মার্কেটে তারল্য সংকট। বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থ সংকট দেখা যাচ্ছে। তার ওপর আবার বাংলাদেশ ব্যাংক এডি রেশিও নিয়ে যে কাজগুলো করেছে, তাতে আমাদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। যে কারণে বর্তমান বাজারের এই নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু বড় মার্চেন্ট ব্যাংকের ফান্ডের সংকটের কারণে তারা কোনোভাবেই বাজারে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সেটি ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত বজায় আছে। এ অবস্থা থেকে যদি আমরা উত্তরণ করতে না পারি তাহলে পুঁজিবাজারের এই পতন  ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং বাজারের ট্রেড ভলিউমও ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। বাজারের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিতভাবে বসে কিছু ক্ষেত্রে নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এক্সপোজার সীমা, এডি রেশিও এবং এক্সপোজার হিসাবের যেই পদ্ধতিগুলো ছিল সেগুলো সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক যদি বিষয়গুলো মেনে নেয় তাহলে বাজারে প্রাথমিক যে পতন হয়েছে, সেটি কোনোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

মোহাম্মদ হেলাল বলেন, প্রচারণায় আমরা তারল্য সংকট দেখছি কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ডেটা তাতে সেরকম কোনো চিত্র দেখা যাচ্ছে না। আমরা অনেকেই বলি দেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে, কিন্তু পুঁজিবাজার পিছিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করলে দেখবেন, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) তথ্য মতে, দেশে প্রায় দেড় লাখ কোম্পানি তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার কোম্পানি সক্রিয় আছে কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে মাত্র ৩০০ কোম্পানি। এখন কথা হচ্ছে, সক্রিয় ৫০ হাজার কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৩০০ কোম্পানি সামগ্রিক অর্থনীতিতে সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারছে না। তাছাড়া স্বল্প কিছু কোম্পানি বাদে যারা এখানে তালিকাভুক্ত তারা খুব একটা ভালো নয়। অধিকাংশ ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না। আর যেসব ভালো কোম্পানি এসেছে তারা এখনও ভালো করছে। পুঁজিবাজারে যে কোম্পানিগুলো আছে তা সামগ্রিক অর্থনীতিকে উপস্থাপন করে না। একটি দেশের সব কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে না, তবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তো আসার কথা, কিন্তু সেটিও আসেনি।

 

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..