প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পুঁজিবাজার এখন নেশায় পরিণত হয়েছে

রাফুল ইসলাম মামুন একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। স্নাতকোত্তর শেষ করেন ২০১৩ সালে। ২০০৯ সালে পড়ালেখা চলাকালেই কিছু অর্থ বিনিয়োগ করেন পুঁজিবাজারে। তবে এটা তার প্রধান পেশা না হলেও অনেকটা নেশায় পরিণত হয়েছে। মোটামুটি ভালো ধারণা হয়েছে বাজার সম্পর্কে। এই ধারণা থেকেই পুঁজিবাজার সম্পর্কে কিছু কথা বলেন শেয়ার বিজকে। সাক্ষাৎকারÑরাহাতুল ইসলাম

শেয়ার বিজ: কবে এবং কীভাবে শেয়ার মার্কেটে যুক্ত হলেন?

রাফুল ইসলাম মামুন: ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ  করি। তখন বাজার বেশ গরম ছিল। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে নানা ইতিবাচক খবর ছাপা হতো এবং সবার মুখে মুখেই শেয়ার ব্যবসার কথা শোনা যেত। তখনই মূলত পুঁজিবাজার সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হয়। জিপি’র শেয়ার পুঁজিবাজারে আসায় বাজার রমরমা অবস্থায় ছিল। সে সময় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে সকলেরই লাভবান হওয়ার কথা শোনা যেত। এটা শুনে আমিও প্রথমে প্রাইমারি মার্কেটে বিনিয়োগ করি। পরে ধীরে ধীরে সেকেন্ডারি মার্কেটে যুক্ত হই। শুরুতে না বুঝেই বাজারে বিনিয়োগ করি। পরে ধীরে ধীরে বাজার সম্পর্কে ধারণা হয় এবং বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করতে থাকি।

শেয়ার বিজ: শেয়ার কেনার আগে কোম্পানির কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করেন এবং কেন করেন?

রাফুল ইসলাম মামুন: মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার কেনার চেষ্টা করি। মূলত এ ধরনের কোম্পানিগুলোর ইপিএস, পিই রেশিও ও ডিভিডেন্ড ভালো থাকে। তাছাড়া অনেক সময় স্পন্সর ডিরেক্টরদের কত শতাংশ শেয়ার আছে, বিদেশি বিনিয়োগ আছে কি না, সর্বশেষ এক, দুই বা তিন মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কী পরিমাণ ঢুকেছে বা বের হয়ে গেছে, সেটিও বিবেচনায় রাখি। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতেও শেয়ার সংগ্রহ করি। কারণ অনেক সময় উড়ো খবরেও লাভবান হওয়া যায়। পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে জেড ক্যাটাগরির কিছু শেয়ারেও বিনিয়োগ করি। আমাদের বাজার যেহেতু স্বাভাবিক নয়, তাই দেখা যায় ভালো শেয়ারগুলোর দর একই জায়গায় পড়ে থাকে, কিন্তু জেড ক্যাটাগরির শেয়ার দ্বিগুণ-তিনগুণও বেড়ে যায়। এ কারণে মাঝেমাঝেই জেড ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকি।

শেয়ার বিজ: কোথায় ট্রেড করেন এবং সিকিউরিটিজ হাউজে কত সময় কাটান?

রাফুল ইসলাম মামুন: আমি একটি ছোট ব্যবসা করি এবং সেখানেই সময় বেশি দিই। ফলে হাউজে গিয়ে ট্রেড করার সময় পাই না।  ফোনেই শেয়ার কেনাবেচা করি। তাছাড়া পুঁজিবাজার এখন নেশায় পরিণত হয়ে গেছে। তাই প্রতিদিনই নেটে পুঁজিবাজার সম্পর্কে আপডেট খবরা-খবর নিই। সেদিক বিবেচনায় পুঁজিবাজারের সঙ্গে সব সময়ই থাকি বলা চলে।

শেয়ার বিজ: বর্তমান পুঁজিবাজার সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?

রাফুল ইসলাম মামুন: বর্তমানে পুঁজিবাজার আগের থেকে সক্রিয় হয়েছে। বিএসইসি, ডিএসই ও আইসিবি বর্তমানে পুঁজিবাজারকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।  ২০১০ সালের মতো ধস নামার আশংকা অনেকটাই কমে গেছে। তাছাড়া পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে ব্যাংক বা অন্য কোথাও বিনিয়োগে  তেমন আস্থা পাচ্ছে না বলে পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। কারণ লাভ-লোকসান যাই হোক না কেন নিজের অ্যাকাউন্টেই টাকা বা শেয়ার থাকছে। তবে পুঁজিবাজারে কিছু সমস্যা আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে অনেক। তাছাড়া বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে বড় পতনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাই বেশি থাকে। বাজার একটু ওপরের দিকে উঠতে শুরু করলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্নভাবে রাশ টেনে ধরে। অন্যদিকে আমাদের বাজার এখনও ইকুইটিনির্ভরই রয়ে গেছে। বাজারকে ঢেলে সাজাতে হবে। বিভিন্ন প্রডাক্ট আনতে হবে বাজারে। রাষ্ট্রায়ত্ত শেয়ারগুলো ছাড়া জরুরি। বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে নানা সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাজারের প্রতি সরকারকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পুঁজিবাজার যে একটি দেশের অর্থনীতির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তা হয়তো সরকার বোঝে না, যে কারণে মাঝেমধ্যেই সরকারের উপরমহল থেকে বিভিন্ন নেতিবাচক কথা শোনা যায় বাজার সম্পর্কে।

শেয়ার বিজ: ২০১০ সালে শেয়ার মার্কেট ধসের পর কীভাকে টিকে আছেন?

রাফুল ইসলাম মামুন: আমাদের দেশে ১৯৯৬ সালে প্রথম বড় ধস নামে পুঁজিবাজারে। পরে ২০১০ সালে দ্বিতীয় বারের মতো শেয়ার মার্কেটে বড় ধস নেমে। তখন অধিকাংশ শেয়ারের দর অযৌক্তিক হারে বাড়তে থাকে এবং বাজার অতিমূল্যায়িত হয়ে যায়। বাজারে এই অবস্থা দেখে অনেক নতুন বিনিয়োগকারী আসেন এবং অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হন। ২০১০ সালের ওই ধসে আমিও বড় ক্ষতির মুখে পড়ি। ছাত্রাবস্থায় অনেক কষ্টে পুঁজি সংগ্রহ করে বেশ কয়েক লাখ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলাম। ওই ধসে অধিকাংশ পুঁজি হারানোটা আমার জন্য ছিল অনেক বেদনাদায়ক। এখনও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারিনি।