দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পুঁজিবাজার না ঘুরতেই ফের চাঙা ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: সাম্প্রতিক বড় পতনের পর পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে না দাঁড়াতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল তথা ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির শেয়ার। এসব কোম্পানির আর্র্থিক অবস্থা দুর্বল। ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত। নেই সন্তোষজনক শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদ। তারপরও এসব শেয়ারদর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। চার কার্যদিবস উত্থানের পর গতকাল সূচকের পতনের দিনও এ ধরনের কোম্পানির আধিপত্য দেখা গেছে।

এদিকে আর্থিক বিবেচনায় দুর্বল হলেও পুঁজিবাজারে সব সময়ই এ ধরনের কিছু কোম্পানির আধিপত্য দেখা যায়। আর না-জেনে না-বুঝে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাই এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ পরিহার করতে পরমর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সম্প্রতি পুঁজিবাজার ধসের পর গত বুধবার থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। ফলে দর বাড়ে অধিকাংশ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের। কিন্তু ভালো কোম্পানির পাশাপাশি বেড়েছে কিছু চালচুলাহীন কোম্পানির শেয়ারের দর। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই দর বৃদ্ধির দৌড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে এসব কোম্পানি।

গতকালও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিনও দর বেড়েছে অধিকাংশ ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারের। এদিনও লিবরা ইনফিউশন, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার, প্রগ্রেসিভ ইন্স্যুরেন্সসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিমত, বছরের বেশিরভাগ সময়ই তুলনামূলকভাবে বাজারে কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। সে তুলনায় বাড়ছে না মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দর। দ্রুত লাভের জন্য কারসাজিকারীরা সাধারণত এ ধরনের শেয়ার বেছে নেন। ফলে কিছু লোক এখান থেকে লাভবান হলেও অধিকাংশের পুঁজি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে গেলে বিনিয়োগকারীরাও বাজারে ফিরে আসেনÑএটা ভালো খবর। তবে তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তারা যেন কোনো ধরনের ভুল না করেন। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার থেকে অনেকে সুযোগ নিতে চান।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে এখন অনেক ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দর ক্রয়যোগ্য রয়েছে। দুর্বল কোম্পানির দিকে না ঝুঁকে তারা যদি কোম্পানি দেখেশুনে বিনিয়োগ করতে পারেন, তাহলে তারা ভালো ফল আশা করতে পারবেন।’

অন্যদিকে এসব কোম্পানি নিয়ে মন্তব্য চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর সাবেক এক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সুযোগসন্ধানীরা ওঁৎ পেতে থাকে। এ সময় অনেকেই তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। কথাটি বিনিয়োগকারীদের মাথায় রাখা উচিত। কারণ যার পুঁজি, নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তারই।’

একই প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে সচেতন হয়েছেন। ফলে তাদের উচিত হবে না অন্য কারও কথায় বা গুজবে কান দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করা। ইনভেস্ট করার আগে তাদেরই ঠিক করতে হবে তারা যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন, সেটা ঝুঁকিমুক্ত কি না। সিদ্ধান্ত ভুল হলে এর মাশুল তাদেরই দিতে হবে।’ তিনি বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তির কোম্পানির সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, টানা পতনের পর গত চার কার্যদিবসে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৩৪০ পয়েন্ট। এর মধ্যে গত রোববার একদিনেই উত্থান হয়েছে ২৩২ পয়েন্ট বা পাঁচ শতাংশ, যা গত সাত বছরের মধ্যে সূচক বৃদ্ধির রেকর্ড। যদিও গতকাল বাজার কিছুটা সংশোধন হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..