মার্কেটওয়াচ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোয় শুদ্ধি অভিযান জরুরি

কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসইসি প্রভৃতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু কর্মকর্তার আয়ের হিসাব নেওয়া দরকার। এখানে একটি শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। কারণ এখানে অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের চাকরির অবস্থান অনুসারে আয়ের কোনো মিল নেই। যদি একটি শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়Ñদেখা যাবে সবাই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। কারণ এসব ব্যক্তির কারণেই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ এবং আইনজীবী ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব।

সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার  হতাশাজনক অবস্থানে রয়েছে। এতে একদিকে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয় কম হচ্ছে এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোও লোকসান গুনছে। আসলে বিএসইসির একার পক্ষে বাজার ভালো করা সম্ভব নয়। এটি ভালো করতে হলে বিএসইসির সঙ্গে ডিএসই এবং সিএসইর সহযোগিতা দরকার। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু এদের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব দেখা যায় না। এসব নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ব্যাপক অভাব রয়েছে। শোনা যাচ্ছে বাজার স্থিতিশীল করার জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। আসলে এ টাকা দিয়ে বাজার ভালো করা যাবে না। বাজার ঠিক করতে হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসইসি প্রভৃতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু কর্মকর্তার আয়ের হিসাব নেওয়ার দরকার। অর্থাৎ এখানে একটি শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। বিশেষ করে বিএসইসির কিছু কর্মকর্তার। কারণ অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের  চাকরির অবস্থান অনুসারে আয়ের কোনো মিল নেই। যদি একটি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন, দেখবেন সবাই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। কারণ এসব ব্যক্তির কারণে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি সরষের ভেতর ভূত থাকে তাহলে বাজার ভালো হবে কী করে। সত্যিকার অর্থে বাজার ভালো করতে হলে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি, বহুজাতিক দুটি এবং বেসরকারি ওয়ালটন কোম্পানিকে বাজারে আনা যায়, দেখবেন বাজারের গতিধারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার মানি মার্কেটকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, ক্যাপিটাল মার্কেটকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। সরকার যদি পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিত, তাহলে আজ সরকার এখান থেকে লাখো কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারত। আশা করি সরকার এদিকে নজর দেবে। আবার সাধারণ বিনিয়োগকারী নির্ভরতা এবং মিউচুয়াল ফান্ড কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারার কারণেও বাজারে এ অবস্থা। এখন বেশিরভাগ  মিউচুয়াল ফান্ড দুরবস্থায় রয়েছে। এ জন্য ফান্ড ব্যবস্থাপকের দায় কম নয়। গত কয়েক বছর ধরে ভালো কোনো ইকুইটি বাজারে আসছে না। আর আগামী দুবছরে বস্ত্র খাতের কোনো কোম্পানিকে যেন অনুমোদন না দেওয়া হয়। এখন আইটি, ওষুধ, এফএমজি, জ্বালানি প্রভৃতি খাতের কোম্পানি আনা উচিত। তবে বস্ত্র খাতের ভালো মানের দু-একটি কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। কারণ গত কয়েক বছরে যতগুলো বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাজারে আসছে তার বেশিরভাগের শেয়ারদর ফেসভ্যালুর নিচে রয়েছে। অসংখ্য বিনিয়োগকারীর টাকা লুট করেছে। এবার বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু করা দরকার।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..