দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পুঁজিবাজার বন্ধ রাখার দাবি জোরদার হচ্ছে

লেনদেনের সময় কমল এক ঘণ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভারইরাস। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারেও। ধস সামলাতে কিছু দেশে পুঁজিবাজার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও এ দাবি জোরদার হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনও পুঁজিবাজার বন্ধ রাখার কথা ভাবছে না। তবে তারা লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের পতন দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। প্রায় প্রতিদিনই সূচক কমেছে তিন থেকে চার শতাংশের বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও ডিএসইতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। সকালে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হলেও দিন শেষে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের পতন দেখেছেন।

সকালে লেনদেন শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক বৃদ্ধি পায় ১০৬ পয়েন্ট, কিন্তু তা ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য। এর পরই সূচকের পতন শুরু হয়, যা সারা দিন অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ১৬৮ পয়েন্ট কমে সূচকের অবস্থান হয় তিন হাজার ৬০৩ পয়েন্টে। শতাংশের হিসাবে সূচকের পতন ঘটে প্রায় সাড়ে চার শতাংশ।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত একজনের মৃত্যু ও নতুন রোগী বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গতকাল বড় পতন হওয়ায় লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জোরদার হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার দিন দিন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার কথা বললেও তারা তা করছে না। অন্যদিকে সারা বিশ্বে এখন করোনাভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা আমাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় কমপক্ষে ১৫ দিন পুঁজিবাজার বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়।

জানতে চাইলে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক শেয়ার বিজকে বলেন, দুটি বিষয় মাথায় রেখে আমরা লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছি। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, প্রতিনিয়ত বাজারে পতন। অন্যটি করোনাভাইরাস আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার (আজ) আমরা এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বিএসইসিতে লিখিত আবেদন জানাব। যদিও এর আগে বিষয়টি আমরা ডিএসই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এদিকে এখনও লেনদেন বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন না ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে গতকাল বিকালে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএসই কর্তৃপক্ষও। সে অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জে আজ থেকে সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া লেনদেন চলবে দেড়টা পর্যন্ত।

এ বিষয়ে কথা হলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক শেয়ার বিজকে বলেন, লেনদেন বন্ধ থাকবে, আমরা এখনও এমনটি ভাবিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও আলোচনা দরকার। তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও দীর্ঘসময় পুঁজিবাজার বন্ধ রাখা হয়নি, যারা করেছে তারা অল্প সময়ের জন্য করেছে। কিন্তু আমরা এখনও এসব ভাবছি না।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীন, ভারতসহ সব দেশের পুঁজিবাজারে ধস নামতে দেখা গেছে। এর জের ধরে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনে পুজিবাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কায়ও এক দিন পুঁজিবাজার বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া ভারতের পুঁজিবাজার ৪৫ মিনিট, পাকিস্তানের ৪৫ মিনিট এবং আমেরিকায় ১৫ মিনিট বাজার বন্ধ রাখা হয়।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সূচকের পতন হয় সাত শতাংশ। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া লন্ডনের পুঁজিবাজার ল ফুটসি ওয়ান হানড্রেড সূচক কমে যায় আট দশমিক চার শতাংশ। এ সূচকের ইতিহাসে এটি চর্তুর্থ সর্বোচ্চ পতন। এর আগে ১৯৮৭ সালে দুবার আর ২০০৮ সালে একবার এত বিরাট দরপতনের ঘটনা ঘটে। পরে লেনদেন চালু হওয়ায় এসব পুঁজিবাজারের সূচকে এখন উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..