মার্কেটওয়াচ

পুঁজিবাজার বাঁচাতে সরকারকে

দায়িত্ব নিতে হবে: বাজার খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কারও কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। এতে মনে হচ্ছে, বিনিয়োগকারীরাই অপরাধী। তারা এখানে বিনিয়োগ করেই বেশি অন্যায় করেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজারের কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। তারা চেয়ার বাঁচানোর জন্য যা যা দরকার তাই করবে। তাই সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এটা ছাড়া এখন কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এএফপির ব্যুরো চিফ মো. শফিকুল আলম এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট সাইফ ইসলাম দিলাল।

মো. শফিকুল আলম বলেন, ২০১৯ সাল পুঁজিবাজার একটি ভয়াবহ দিন পার করেছে। নতুন বছরে সূচক ২০০ পয়েন্ট কমে গেছে। যেখানে দেশের জিডিপি আট দশমিক ১৩ শতাংশ গ্রোথ হয়েছে, কিন্তু সেটার প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে না। বাজার যে অবস্থানে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা না হয়ে বাজার আরও নেতিবাচকের দিকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একসঙ্গে বসা উচিত। তাদের বিবেচনা করা দরকার, যদি এভাবে চলতে থাকে তবে একসময় বাজার থাকবে কিন্তু বিনিয়োকারী থাকবে না। পুঁজিবাজার হচ্ছে বিনিয়োগের একমাত্র নিরাপদ জায়গা। শুধু এদেশে নয়, বিশ্বের যে কোনো দেশে বিনিয়োগের একমাত্র নিরাপদ জায়গা হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই পুঁজিবাজার আগে ঠিক করতে হবে। যদি এ বাজার ঠিক না করেন আবার ব্যাংকের বিনিয়োগও নিরাপদ না থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারী কোথায় যাবে? 

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে সূচক ৯০০ পয়েন্ট থেকে ৪৫০ পয়েন্ট নেমে এসেছিল। এখান থেকে আমরা কিছুই শিখিনি। আবার ২০১০ সালে বাজারে পতন হয়। এরপর ডিএসইকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হলো। যেহেতু ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে, নতুন রেগুলেশন বডি হয়েছে এবং নতুন একজন চেয়ারম্যান এসেছে। এখন বাজার একটি উন্নয়নের দিকে ধাবিত হওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টোটা।   

সাইফ ইসলাম দিলাল বলেন, একদিকে বাজার পতন হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার থেকে বিনিয়োগকারী চলে যাচ্ছেন। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন এখন যদি বাজার থেকে বেরিয়ে যাই তাহলে অন্তত কিছুটা পুঁজি বাঁচানো যাবে। যদি সেটি না করি আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। গত এক বছর ধরে বাজারে যা হচ্ছে এবং নতুন যেসব কোম্পানি আসছে সব ক্ষেত্রেই অরাজকতা। যার যা খুশি তাই করা হচ্ছে। এখন বাজার খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু কারও এ ব্যাপারে দায়-দায়িত্ব নেই। এতে মনে হচ্ছে, বিনিয়োগকারীরাই অপরাধী। কারণ তারা এখানে বিনিয়োগ করে বেশি অন্যায় করছেন। যেহেতু নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজারের কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। এদের অভিযোগ করে আর লাভ নেই। কারণ তারা চেয়ার বাঁচানোর জন্য যা যা করা দরকার তাই করবেন। তাই সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এটা ছাড়া এখন কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। এখন সরকার দায়িত্ব না নিলে বাজার ভালো হবে না। আর কত বাজার এভাবে চলবে এবং বিনিয়োগকারীরা আর কত ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..