সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজার যেন ফের অস্থিতিশীল না হয়

টানা আট কার্যদিবস ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। এরপর যেন ‘ক্লান্তি’ এসে গেল। রোববার সব মূল্যসূচক হলো নেতিবাচক। মূলত একযোগে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই শেয়ার বিক্রয়ে বেশি মনোযোগী ছিলেন। ফলে সামগ্রিকভাবে পড়ে যায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সব সূচক। এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ও পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ইস্যুতে গতকাল বৈঠকে বসেন ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রধান। দুই সংস্থার প্রধান খুব কম সময়েই বৈঠকে (হোক না তা অনলাইনে) বসেছেন, এটি ইতিবাচক। বাজারের অবস্থা বিবেচনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।

গতকাল শেয়ার বিজের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসইসি কঠোর অবস্থানে থাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্বল ও স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর। তবে এরই মধ্যে ভালো মানের কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে কিছু নামসর্বস্ব স্বল্পমূলধনি ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ার। এসব কোম্পানির দৌরাত্ম্য থামাতে কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির সার্বিক অবস্থা যাচাই ও করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। উভয় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৭টি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে রয়েছে। তাদের সার্বিক আর্থিক অবস্থাও যাচাই করে দেখা হবে। পাশাপাশি ওই কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন একটি মানসম্পন্ন জায়গায় আনার বিষয়ে কাজ করা হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বিকল্প কিছু করা যায় কি না, তাও চিন্তা-ভাবনা করে দেখবে কমিশন।

৪০-এর বেশি পিই-রেশিওধারী কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করা হবে। এসব কোম্পানিকে বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য করে মার্জিন ঋণ দেয়া হচ্ছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হবে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পুঁজি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হলেও প্রায় সারাবছরই অতিমূল্যায়িত থাকে এসব কোম্পানির শেয়ার। এর মূল কারণ হচ্ছে এ ধরনের কোম্পানিতে কারসাজি বেশি হয়। অল্প শেয়ার থাকলে কারসাজিকারী অল্প মূলধন বিনিয়োগ করে কারসাজি করতে পারে। পরে কৌশলে শেয়ারদর বাড়িয়ে পরে তা বিক্রি করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে এর লোকসানের দায়ভার নিতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, তা দেখে বুঝেশুনে বিনিয়োগ করতে হবে। গুঞ্জন-গুজবে প্রভাবিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদেরও মেধা খাটিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারবিষয়ক সঠিক তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকলে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা কমবে। QlOqQH�UOճ^

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..