সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজার রক্ষায় দুষ্টচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করুন

পুঁজিবাজারে লেনদেন হ্রাস-বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি বিশ্বের সব বাজারেই হয়, কিন্তু তা সাময়িক। আমাদের পুঁজিবাজারে যে লেনদেন হচ্ছে, তা স্বাভাবিক মনে করছেন না নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। যেহেতু বাজারে স্বাভাবিক গতি আসছে না, তাই প্রতীয়মান হয় বাজারকে এগিয়ে নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ তথা পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এটিই প্রত্যাশিত।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘পুঁজিবাজারে আবারও দুষ্টচক্র ঘুরতে শুরু করেছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিশেষ গুরুত্ব রাখে। রোববার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি’ শীর্ষক উপস্থাপনায় এমনই মন্তব্য স্বনামধন্য বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ২০১০ সালের আগে বাজারে যে কারসাজির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, ফের সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

সিপিডি বলেছে, ২৩টি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশই দিতে পারেনি। আর পূববর্তী বছরের তুলনায় লভ্যাংশ প্রদান কমেছে ৫২টি কোম্পানির। আগের বছরের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে মাত্র ৯টি কোম্পানি। আর মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই নি¤œমানের জেড ক্যাটেগরির কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে।

সিপিডির মূল্যায়ন দেখে প্রমাণিত হয়, সংস্থাটির বক্তব্য কেবল ধারণানির্ভর নয়, বরং প্রদত্ত তথ্যই বিষয়টির যৌক্তিকতা তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। পুঁজিবাজারে কারা খেলোয়াড় বা দুষ্টচক্র, এটি অনেকটা ওপেন সিক্রেট। দুষ্টচক্র চিহ্নিত হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ বলেই আমরা মনে করি। এমনিতেই পুঁজিবাজার তলানিতে, এ অবস্থায় কারও কারসাজি লাখো বিনিয়োগকারীকে পথে বসাতে পারে।

সিপিডি কেবল মন্তব্যই করেনি, বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পরামর্শও দিয়েছে। পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থার ত্রুটিগুলোও চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো দুর্বল প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), কোম্পানিগুলোর ত্রুটিপূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন, বিও হিসাবে স্বচ্ছতার ঘাটতি, সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম। যতই ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন এসব দুর্বলতা থাকলে কোনো পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।

২০১০ সালের পর থেকেই বাজার কাক্সিক্ষতভাবে এগোয়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দৈনিক লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাজার মূলধনের অন্তত তিন-চতুর্থাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য স্থির করেছে। বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করে অংশীজনের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখাই প্রধান লক্ষ্য ডিএসইর, যদিও এগুলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সিপিডির পরামর্শ আমলে নিয়ে বিদ্যমান ত্রুটি দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিলে দুষ্টচক্র বাজার কারসাজি করতে পারবে না। তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং ডিএসই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলেই আমরা মনে করি। “,”sey~?B[>

সর্বশেষ..