সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজার রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় সিদ্ধান্ত অপরিহার্য

পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই পতন ধারা চলছে। গতকাল ডিএসই সূচক ৩৪ মাস আগের অবস্থানে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আশায় এখন গুড়েবালি। এই সংকটের ত্রাণকর্তা বলে যাদের ভাবা যায় তাদের পক্ষ থেকে ভালো কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বাজার পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই তারল্য সংকট চলছে। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে রয়েছে কেন তা মূল্যায়ন করতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে শেয়ারের দাম আরও কমতে থাকবে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ে দুষ্টচক্রের কারসাজি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্দেহও খতিয়ে দেখতে হবে। সার্বিক সংকটের সমন্বিত সমাধান না করলে পরিস্থিতি শোচনীয় হতে পারে বলে আমরা মনে করি।
পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল মানসিক কারণেই বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক বাড়ছে। এ কথাটির সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি না। গত বছরের মাঝামাঝিতে বাজার কিছুটা উন্নত হলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকেছিল। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। অর্থাৎ আমাদের বিনিয়োগকারীদের সবাই গুজবের আতঙ্ক নিয়ে ছুটছে তা বলা যাবে না। গতকালের শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে জানা যায়, ডিএসই’র প্রায় ৭৭ শতাংশ কোম্পানির দরপতনে বাজার মূলধন তিন হাজার কোটি টাকার বেশি কমে যায়। কোম্পানির এই দরপতন আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। প্রতিদিনই পুঁজি উধাও হতে দেখা যাচ্ছে। এখন বিনিয়োগকারীরা পুঁজির নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত। বিএসইসি এখানে উল্লেখযোগ প্রণোদনা বা নীতিগত পদক্ষেপ নেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বাজারে নতুন অর্থ না আসাকেই সংকট মনে করছেন। তবে এই সংকটের পেছনে নিশ্চয় কার্যকারণ রয়েছে। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কম দামে শেয়ার কেনার অপেক্ষায় বিনিয়োগ থেকে হাত গুটিয়ে রাখছে এমন ধারণার সত্যতা যাচাই করতে হবে। তারল্য সংকট নিয়ন্ত্রণে নীতিগত কৌশল নিতে হবে। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হতে দেখা যাচ্ছে। অর্থ পাচার রোধে শুল্ক বিভাগগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ২০১০ সালের পুঁজিবাজারে ধস নামার অতীত ইতিহাস ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক মর্যাদা রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে গত মাসের শেষের দিকে অর্থমন্ত্রী কারসাজির কারিগরদের ধরা ও পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন। এসব পদক্ষেপে বাজারে তারল্য বাড়ার ব্যাপারে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে কারসাজিকারীদের মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারার আশঙ্কাও তারা প্রকাশ করেন। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ তারা দেন। তবে এরপর থেকে টানা পতন অংশীজনদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাহলে কি পরিস্থিতি বেহাত হয়ে গিয়েছে? এমন হতাশা যেন দেশবাসীকে পেয়ে না বসে সে জন্য সরকারকে আশু উদ্যোগ নিতে হবে।

সর্বশেষ..