সম্পাদকীয়

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলে ভূমিকা রাখুক উন্নয়ন তহবিল

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার কতটা শক্তিশালী বা আদৌ শক্তিশালী কি না, তা কেবল অংশীজনরা নন, এখন বোধ করি সাধারণ মানুষও জানেন। প্রায়ই পুঁজিবাজারের নেতিবাচক খবর আসে গণমাধ্যমে। বাজারে উত্থান-পতন থাকতেই পারে। উন্নত বিশ্বের বাজারেও পতন হয়, আবার ঘুরেও দাঁড়ায়। আমাদের বাজারকে ঠেলেঠুলে একদিন দাঁড় করালেও পরদিনই ধপাস! মার্কেট পড়ে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা নড়েচড়ে বসে। এরপর কাজে ধারাবাহিকতা থাকে না; থাকে না নজরদারি। ফলে পুুঁজিবাজার পরিস্থিতি সাময়িকভাবে মোকাবিলা করা গেলেও সমস্যা থেকেই যায়। সম্ভবত এ অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত তহবিল গঠনের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খবরে বলা হয়, রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রতিনিধিদল। বৈঠকের পরই এমন কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, বৈঠকে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় তারল্য সংকট নিরসন ও প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বলা হয়ে থাকে, বাজারে পতনের পেছনে তারল্য সংকট রয়েছে। আর এ সংকট সৃষ্টি হয় সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অসতর্কতায়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা দিয়ে সংকট সৃষ্টি করেছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান আমাদের আশাবাদী করে। কেবল উন্নয়ন তহবিল গঠিত হলেই বাজার ঘুরে দাঁড়ায় না এবং এটি সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়। দুষ্টচক্র ও সুযোগসন্ধানীরা বাজারে পতন ঘটাবে আর তহবিল হাতিয়ে নেবে, এমন যেন না হয়। এ তহবিলের যথাবিহিত সদ্ব্যবহার ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা গেলেই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তহবিল গঠনের পাশাপাশি অন্যান্য উদ্যোগও নিতে হবে; যেমন বর্তমানে কোম্পানি আইন অনুযায়ী লক্ষাধিক লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধিত। এর মধ্যে কমপক্ষে কয়েক হাজার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা আছে। কিন্তু আমাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা নগণ্য। বাজার চাঙা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি, মোবাইল ফোন অপারেটরসহ বেশি মুনাফা অর্জনকারী বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে।

শেয়ারবাজার শক্তিশালী করায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাপিটাল মার্কেট স্পেশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবির কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা চাই। নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ অংশীজনের সমন্বিত পদক্ষেপে পুঁজিবাজার দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..