প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত লাখ লাখ বিনিয়োগকারী

ছয় মাসে সূচক কমল হাজার পয়েন্ট

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতন যতই বড় হচ্ছে, পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। লাগাতার পতনে নিজেদের পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি বড় বড় পতন তাদের আরও ভাবিয়ে তুলছে। ফলে বাজার স্থিতিশীল হবে এতদিন যারা এই ভেবে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছিলেন, তারাও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। গতকালও বড় পতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। এর জেরে রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করেছেন তারা।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়, প্রতিদিনই উধাও হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া একযোগে কমছে তালিকাভুক্ত সব খাতের শেয়ারের দর। এ পরিস্থিতিতে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে ক্ষোভ। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গতকাল অস্বাভাবিক দরপতন হলে কোনো উপায়ন্তর না দেখে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। বিনিয়োগকারীরা এই পতনের জন্য বিএসইসির সঠিক তদারকি নেই দাবি করে ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
তাদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি আবারও ২০১০ সালের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, এটা চলতে থাকলে অবস্থা করুণ হবে বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক দরপতনের জেরে গতকালও সকাল থেকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমতে থাকে। দিন শেষে সূচকের পতন ঘটে ৬৭ পয়েন্ট। দিন শেষে সূচক স্থির হয় চার হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে। আর লেনদেন হয় ৪৬৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যদিও গত ২৪ জানুয়ারি সূচক চার হাজার ৯৫০ পয়েন্ট ছিল।
বিনিয়োগকারীরা বলেন, পুঁজিবাজারে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যাতে বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মূলত এই বাজার থেকে একটি চক্র লুটপাট করার চেষ্টা করছে। অথচ এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই কারও। তারা বলেন, পুঁজিবাজারের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার কারা হয়েছে, কিংবা রাজনৈতিক পরিবেশ কি হবে, সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। বিনিয়োগকারীরা চান মার্কেট ভালো থাকুক।
এ প্রসঙ্গে মাহবুব আলম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বহুদিন থেকে বাজারে নীরব দরপতন চলছে। অথচ বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখছে না। ফলে বাজারও তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসছে না।
সাম্প্রতিককালের বাজারচিত্র লক্ষ করলে দেখা যায়, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পুঁজিবাজার কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। ফলে তখন বাজারে আসে নানা শ্রেণির মানুষ। কিন্তু বছরের শেষদিকে নানা ইস্যুতে বাজার পতন শুরু হয়। চলতি বছরে তা আরও ভয়ানক রূপ নেয়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট। ফলে বেকায়দায় পড়েন বিনিয়োগকারীরা।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে নজরদারির অভাব রয়েছে। যাদের বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার কথা, তারা বর্তমানে চুপ রয়েছে। ফলে বাজারচিত্র বদলাচ্ছে না। তিনি বলেন, এ কথা ঠিক যে, বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ শেয়ার সস্তা; কিন্তু এখানে নতুন অর্থ না এলে এসব শেয়ার আরও সস্তা হয়ে যাবে।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সিকিউরিটিজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট চলছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এর জন্য দায়ী আইসিবির মতো বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তারা অপেক্ষায় রয়েছে আরও কম দরে শেয়ার কেনার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..