সম্পাদকীয়

পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে চালু হোক ফাইভ-জি সেবা

সারা বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি। বাংলাদেশেও এ সেবা চালু তিন দশক হতে চলল। ইতোমধ্যে দেশে ফোরজি সেবা চালু হয়েছে। সেদিক দিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের থেকে ভালো মানের সেবা পাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত। কিন্তু হতাশাজনকভাবে তা হয়নি। উল্টো অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই গ্রাহকদের। তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়ে বিটিআরসিতে অভিযোগের শেষ নেই। এরই মধ্যে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ফাইভ-জি সেবা চালুর ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এবং সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবার সক্ষমতা নিয়েই কেবল এ ধরনের সেবা চালু করা উচিত বলে মনে করি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ফাইভ-জি নীতিমালা জানুয়ারিতে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভ-জি সেবা দিতে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বিটিআরসি। কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের লক্ষ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা এবং নীতিমালা প্রণয়ন করবে। বিষয়টি ইতিবাচক। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর বিকল্প নেই। তবে এ সেবা চালুর আগে অবশ্যই ফাইভ-জি চালুর জন্য আনুষঙ্গিক পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবার মান নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বিশেষত শহরাঞ্চলে তাদের সেবার মান কিছুটা উন্নত হলেও গ্রামে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোটেও সন্তোষজনক নয়। অপারেটরগুলো ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু করলেও অনেক স্থানে টুজি নেটওয়ার্কও ঠিকমতো মেলে না। গুরুতর ব্যাপার হলো বিটিআরসিতে অসংখ্য অভিযোগ গেলেও তার কার্যকর সমাধান মেলে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ দেশে সেলফোন গ্রাহকসংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি অপারেটরগুলোর আয়-মুনাফাও বাড়ছে। সরকার অপারেটরদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরও সেবার মান সন্তোষজনক না হওয়া অগ্রহণযোগ্য। এ অবস্থায় ভালো মানের সেবার পূর্ণাঙ্গ নিশ্চয়তা নিয়েই কেবল ফাইভ-জি চালু করা উচিত।
খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি রূপরেখা, সম্ভাব্য তরঙ্গ, তরঙ্গ মূল্য এবং বাস্তবায়ন সময়কাল প্রণয়ন করবে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এর মাধ্যমে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর পথ সুগম হবে বলেই প্রত্যাশা। মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবার সর্বশেষ সংস্করণ হলো ফাইভ-জি প্রযুক্তি। ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলো এ সেবা দেওয়া শুরু করেছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। এজন্য সব প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে সরকার দ্রুত ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালু করবে বলে প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..