বিশ্ব সংবাদ

পূর্বানুমানের চেয়ে চলতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার প্রতিবেদন

শেয়ার বিজ ডেস্ক : আগের দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে চলতি বছর বিশ্বে আরও বেশি জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছর প্রতিদিন ৯২ দশমিক এক মিলিয়ন ব্যারেল চাহিদা থাকবে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি চার লাখ ব্যারেল বেশি। খবর: রয়টার্স।

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর এপ্রিলে জ্বালানি তেলের ব্যবহার তলানিতে নেমে যায়। পণ্যটির দাম কমে প্রায় শূন্যে নেমে আসে। জ্বালানি তেল রপ্তানিকারকদের উত্তোলন হ্রাস উদ্যোগে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করলে এখন দাম ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। তবে করোনার বিস্তার এখনও বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের জন্য এখনও বড় ঝুঁকি রয়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় দুই শতাংশ কমেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে তিন শতাংশের বেশি। এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪১ ডলার ৩৭ সেন্ট, আগের দিনের তুলনায় যা দশমিক ৬২ সেন্ট বা এক দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। এ সময়ে আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭৩ সেন্ট বা এক দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৮ ডলার ৫৯ সেন্ট। আগের কার্যদিবসেও জ্বালানি পণ্যটির দাম কমতির দিকে ছিল।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ফরেন এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এক্সিকপ্রের প্রধান বাজার কৌশলবিদ স্টিফেন ইরেন বলেন, ওপেকের রেকর্ড উত্তোলন হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সৌদি আরবের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি হ্রাসের ঘটনাগুলোর জেরে খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছিলেন, চলতি বছরের শেষের দিকে পণ্যটির দামে চাঙা ভাব বাড়তে পারে। তবে পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও পণ্যটির মজুত বৃদ্ধির ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতে দাম কমতির দিতে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

আইইএ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ব্লাক এপ্রিল’ থেকে তেলের বাজার উন্নতি করেছে। তবে কিছু দেশে এখনও কভিড-১৯ ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে, যা তেলের বাজারে ঝুঁকি অব্যাহত রেখেছে। এখনও বাজারে পুরোপুরি অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে চলতি বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় প্রতিদিন ৭৯ লাখ ব্যারেল কম থাকবে বলেছে। ২০২১ সালে কিছুটা বেড়ে প্রতিদিন কমবে ৫৩ লাখ ব্যারেল।   

আগে থেকে নানা জটিলতায় ধুঁকতে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর। মহামারির প্রকোপে চলতি বছরের প্রথম দিকে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক গড়ে তিন কোটি ব্যারেলের বেশি কমে যায়, যা মোট বৈশ্বিক চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি। পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদার এমন অপ্রত্যাশিত পতনে হু হু করে কমতে শুরু করে দাম। দরপতনের ধারাবাহিকতায় এপ্রিলের শেষ নাগাদ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে শূন্য ডলারে গিয়ে ঠেকে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার চাঙা করতে চেষ্টার কোনো কমতি  করেনি ওপেক। এর জের ধরে চলতি বছরের এপ্রিলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসে বৈশ্বিক চুক্তিতে সম্মত হয় জোটভুক্ত দেশগুলো ও এর মিত্ররা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..