দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পৃথক মামলায় তিন জেলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা মামলায় মোট ৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আলাদা আলাদা তিনটি মামলায় এ আদেশ দেন স্থানীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সূত্র: বিডিনিউজ

তিন মামলার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের খাগড়াছড়িতে এক প্রবাসীকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী ও চার সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ রেজা মো. আলমগীর হাসান গতকাল দুপুরে চার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেনÑরাবেয়া আক্তার (৩৫), রামগড় চৌধুরীপাড়ার মানিক মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৪), একই গ্রামের প্রয়াত আবদুল মালেকের ছেলে মো. ফিরোজ (২৮), গুইমারা উপজেলার রেনুছড়ার শাহ আলমের ছেলে আবুল কালাম (২২) এবং একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবুল আসাদ ওরফে মিঠু (২০)।

রায়ে একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে আরও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিধান কানুনগো। মামলার বরাতে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পরকীয়ার জের ধরে রাবেয়া আক্তার লোক ভাড়া করে গুইমারা উপজেলার রবীন্দ্রপাড়ায় তার স্বামীকে জবাই করে হত্যা করান।

বিধান কানুনগো আরও জানান, ঘটনার এক দিন পর গুইমারা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিধান কানুনগো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আসামির আইনজীবী আরিফ উদ্দিন উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

অপরদিকে খুলনায় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বিবেক মণ্ডল, সৌগত রায় এবং অরুণাভ রায়। এর মধ্যে সৌগত ও বিবেক বাড়ি দাকোপ উপজেলার জালিয়াখালী এবং অরুণাভের বাড়ি তিলডাঙ্গা গ্রামে। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

নিহত গোবিন্দ সানা (৪০) উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের বারুইখালী গ্রামের ধনঞ্জয় সানার ছেলে। খুলনার দাকোপ উপজেলার এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরিফ মাহমুদ লিটন জানান, ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২১ নভেম্বর বেলা ২টার মধ্যে কোনো একসময় শ্রী অ্যাগ্রো লিমিটেডের কর্মী গোবিন্দ সানাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ গলায় ও কোমরে ইট বেঁধে ঢাকি নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

২২ নভেম্বর সকালে জালিয়াখালী নদীর চর থেকে ভাসমান অবস্থায় গোবিন্দের মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই কৃষ্ণপদ সানা বাদী হয়ে দাকোপ থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ১৯ জুন সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই আদালতে ওই মামলার শুনানির মধ্য দিয়ে অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু হয়। আদালত ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া বরিশালে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড নিয়েছেন আদালত।

এদিকে গতকাল বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আবুল কালাম আজাদ কালু বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর গণপাড়া এলাকার ওয়াহাব খানের ছেলে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, পূর্ব গণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ২০১৮ সালের ১১ মার্চ স্কুলে যায়। সেদিন স্কুলের টয়লেট বন্ধ থাকায় পাশের কালুর বাড়িতে যায়; ওই সময় বাড়িতে কালু একাই ছিল।

এ সময় কালু সীমাকে টয়লেট থেকে অপহরণের পর নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মেয়েটির লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে স্থানীয় একটি কবরস্থানে ফেলে দেয় সে। এর দুদিন পর ১৩ মার্চ কবরস্থান থেকে সীমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের মা আসামির নাম উল্লেখ করে বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ কালুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

ফয়জুল বলেন, আসামিকে পৃথক অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। অপহরণের দায়ে তাকে যাবজ্জীবন এবং লাশ গুমের ঘটনায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..