দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পেঁয়াজের দামে আবারও সেঞ্চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পেঁয়াজের দামে আবারও সেঞ্চুরি হলো। গত সোমবার ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর রাতেই পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পাইকারিতে তা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেন, ভারত সরকারের রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার খবরে ব্যবসায়ীরা বিক্রি বন্ধ করে দেয়। তবে গতকাল সকালে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বিদেশে পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। 

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার গত রোববার থেকে রাজধানীসহ দেশব্যাপী খোলা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে। এর পরও বাজারে কোনো প্রভাব পড়ছে না। সরকার বিভিন্ন সোর্স থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিচ্ছে। পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো বাড়তি সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য অভিযানও জোরদার করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার বিজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ভোমরা স্থলবন্দর আটকে আছে ১৬৫টি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিমের বরাত দিয়ে ওই প্রতিনিধি জানান, অফিসিয়ালি পেঁয়াজ না দেওয়ার বিষয়টি ভারত জানায়নি। তবে বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক অমিত যাদব এক পত্রের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন একটি খবর জেনেছেন।  ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় ১৬৫টি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আটকে আছে। এছাড়া ভারতের নাসিক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে প্রায় ৩৫০টি ট্রাক পথে রয়েছে। এদিকে পেঁয়াজ বন্ধের খবরে সাতক্ষীরার বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে হিলি প্রতিনিধি জানান, পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকেরা। এই বন্দর দিয়ে সোমবার ও গতকাল পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতে আটকে পড়েছে ২৫০-৩০০টি পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক। এছাড়া আমদানির জন্য এলসি করা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকেরা।

এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে বন্দরে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। গত রোববার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, শুধু হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা ১০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানির জন্য ভারতে এলসি করেছেন, যার বিপরীতে ২৫০-৩০০টি ভারতীয় ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে ভারতে আটকে পড়েছে। এসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে না পারলে পেঁয়াজে পচন ধরে নষ্ট হবে। লোকসান গুনতে হবে তাদের। কিন্তু হঠাৎ করেই ভারত সরকার বন্যার কারণ দেখিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা চাই আমাদের এলসি করা পেঁয়াজগুলো দেশে পাঠানো হোক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস জানায়, রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খাতুনগঞ্জে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বাড়ল ২২-২৫ টাকা। এখনও বিশাল পরিমাণ আগের আমদানিকৃত পেঁয়াজ মজুত আছে এখানে। গত সোমবার সকালে ৩৭ টাকায় বিক্রি হলেও বিকালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ টাকা, গতকাল সকালে তা ৬০-৬৫ টাকা। এদিকে আরও অধিক লাভের আশায় কিছু অতি মুনাফালোভী ব্যবাসায়ী বাজারে সংকট তৈরি করতে বন্ধ রেখেছে পেঁয়াজ বিক্রি। ফলে পাইকারি বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুচরা বাজারেও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়। ফলে যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এজন্য পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে গত সোমবার ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধ করে।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। আর সঙ্গে সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্যটির মূল্য হু-হু করে বাড়িয়ে দেয়। এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেড়েছিল। গত বছর সর্বশেষ কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ২৬০ থেকে ২৭৫ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবমতে, গত সোমবার রাজধানীর বাজারগুলোয় প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে তা গতকাল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর গত সোমবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বিদেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে তা গতকাল বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..