মত-বিশ্লেষণ

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ কি সরকারের পক্ষে অসম্ভব?

পাঠকের চিঠি

পেঁয়াজ মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক খাদ্যপণ্যের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। পেঁয়াজ ছাড়া তরকারির স্বাদ কল্পনাই করা যায় না। পেঁয়াজের ঝাঁঝ বাস্তবে বোঝা যায় পেঁয়াজ কাটলে। কিন্তু এখন সেই পেঁয়াজের ঝাঁঝ কাটলে নয়, কিনতে গেলে বোঝা যায়। পেঁয়াজের দাম বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে ঊর্ধ্বগামী হচ্ছে। সব মহলেই এখন পেঁয়াজের দাম নিয়ে আলোচনা চলছে। টকশো, চায়ের টেবিল, বাজারের আড্ডাখানা, রাজনৈতিক বিরোধী নেতাসহ সবার মুখেই এ আলোচনা। শুধু সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রীর মুখে শোনা যায়, পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অমুক মাস থেকে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হবেÑসরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে এমন বাণী শোনা যায়। অনেকে পেঁয়াজ নিয়ে হাসাহাসি করেন যে, পেঁয়াজ ছাড়াও তরকারি রান্না করা যায়। তাদের দাম নিয়ন্ত্রণের চিন্তা নেই, আছে উপহাস!

পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিরুদ্ধে আগেভাগেই উদ্যোগ নিলে দাম কোনোভাবেই বাড়ত না। এটা সরকারের চরম ব্যর্থতা। আমদানি হোক আর না হোক, কিংবা জনগণের জন্য বাজারে পেঁয়াজ থাক বা না থাক দাম বাড়বে কেন? জনগণ তো পেঁয়াজ না পাওয়ায় রাস্তায় আন্দোলনে নামেনি। জনগণ তো ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজের জন্য লাঠিপেটা করেনি। জনগণ তো সরকারকে কোনো আল্টিমেটাম দেয়নি যে, পেঁয়াজ কেন বাজারে নেই? ক্যাসিনোকাণ্ডকেও যেন হার মানিয়েছে পেঁয়াজের দাম! পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের কাছে সরকার বহুলাংশে অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা সরকারকে নয়, বিপদে ফেলছে সাধারণ মানুষকে। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যই একটি দেশের সরকার গঠিত হয়। জনগণের ভালো-মন্দ দেখভাল করাই সরকারের অন্যতম কাজ। কিন্তু দিনের পর দিন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে সরকার। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিদর্শনের সংবাদ গণমাধ্যমে শোনা যায় অমুক বাজারে অমুক ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি বাজারে পেঁয়াজের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারলে সুফল পাওয়া যেত। ১৬ কোটি মানুষের দেশে দু-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা পর্যাপ্ত নয়।

এখন আসি মূল কথায়। পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে যে ধোঁয়াশা শুরু হয়েছে, তার গোড়ার দিকে নজর দিই। পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে, কে বাড়াচ্ছে, কোথা থেকে দাম বাড়ানোর নির্দেশনা আসছে? আমদানি কি সমস্যা হচ্ছে? আগে যখন ১৮ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যেত তখন কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হতো, আর এখন কী পরিমাণ আমদানি হচ্ছে? যেখান থেকে আমদানি হচ্ছে সেখানে দামের হালচাল কেমন? সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ আছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সব রহস্য উম্মোচিত হবে। কিন্তু এ প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে কোথা থেকে? তবে জনগণের সমালোচনা থেকে মুক্তি পেতে হলে এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। পেঁয়াজের দাম আজ হোক আর কাল হোক নিয়ন্ত্রণ হবেই। শুধু পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর উত্তাল সময়টি সরকারের জন্য একটি কালো সময় হয়ে থাকবে। দেশে একটি নিত্যদিনের খাবারের ঊর্ধ্বমুখী দামের জন্য বিশ্বের আলোকিত একটি সরকারের সুনাম ক্ষুণœ হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। দেশ পরিচালনা করে বিশ্বময় একটি দেশ উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, হাজারো সমস্যা সমাধানে যার অভিজ্ঞতা বিশ্বময়। এমন এক অভিজ্ঞ দেশপ্রধানের দেশে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কঠিন জটলার সৃষ্টি হোক, আমরা তা কখনোই আশা করি না। আশা করি প্রধানমন্ত্রী দেশের জনসাধারণের কথা চিন্তা করে অচিরেই এর সমাধান করে ফেলবেন; পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করে দেশের ভীতিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাবেন।

আজিনুর রহমান লিমন

আছানধনী মিয়াপাড়া

ডিমলা, নীলফামারী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..