সম্পাদকীয়

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিন

ভারত রফতানিমূল্য দ্বিগুণ করার পরই কম দামে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম এক দফা বাড়িয়ে দেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। এরপর দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর কথা বলে রফতানি বন্ধ করলে আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। একদিনে তিনবার দাম বাড়ানোর দৃষ্টান্তও রয়েছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১৫ টাকা পর্যন্ত।

দাম নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজের বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। বড় ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধ করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী দুই মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেঁয়াজ আমদানিতে বেশ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে সরকার। এলসি সহজ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনে ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নৌ ও স্থলবন্দরগুলোয় পেঁয়াজের দ্রুত ছাড় করার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য আমদানি শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশহ (ক্যাব) বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন।

বাজার নিয়ন্ত্রণে এত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীদের বাগে আনা যাচ্ছে না। ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের আধিপত্যে ভোক্তারা অসহায়’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। শনিবার চট্টগ্রামে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) হাটহাজারী উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে করণীয় নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ হতাশা ব্যক্ত করেন।

ভোক্তাসাধারণ প্রতিনিয়তই প্রতারিত হওয়ার প্রধান কারণ, তারা সংগঠিত নন। এর সঙ্গে প্রশাসনের উদাসীনতা যোগ হলে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ২০১২ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, সব ধরনের মসলা এবং খাবার লবণ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। সে অনুযায়ী এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মূল্য পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়া ট্যারিফ কমিশনের কাজ। সংস্থাটি যথানিয়মে এ দায়িত্ব পালন করলে এসব পণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত বলেই আমরা মনে করি।

টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে মজুদকৃত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়তে বাধ্য হবে অসাধু ব্যবসায়ীরা। মজুদবিরোধী অভিযানে শাস্তি হলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করতে পারে সরকার। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও তদারকির পাশাপাশি প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়, গণশুনানি প্রভৃতির মাধ্যমে আইন ও অধিকার বিষয়ে ভোক্তাদের সচেতন করা গেলে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা নিবৃত্ত হতে পারেন।

সর্বশেষ..