পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিন

দেশের পেঁয়াজের বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। নিকটতম হওয়ায় ভারত থেকেই বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। দেশটিতে পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করলে স্বাভাবিকভাবেই সে প্রভাব পড়ে আমাদের বাজারে। আমাদের মনে আছে বছর দুয়েক আগে ভারত রপ্তানিমূল্য দ্বিগুণ করার পরই কম দামে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বাড়িয়ে দেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। এরপর দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর কথা বলে রপ্তানি বন্ধ করলে আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। একদিনে তিনবার দাম বাড়ানোর দৃষ্টান্তও রয়েছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সে সময় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। আমদানিতে একক দেশের ওপর নির্ভর করায় আমাদের মাশুল দিতে হয়েছে। এখন মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসরসহ অন্য উৎস থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা। ভারতের বাজারে নিত্য এ পণ্যটির মূল্য বাড়ায় এবং আমদানি কম হওয়ায় দেশের বাজারে দাম বাড়ছে বলে দাবি আমদানিকারকদের। এদিকে প্রতিনিয়ত দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এতে পেঁয়াজ কিনতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।

পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেঁয়াজ আমদানিতে বেশ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে সরকার। এলসি সহজ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনে ঋণ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নৌ ও স্থলবন্দরগুলোয় পেঁয়াজ দ্রুত ছাড় করার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য আমদানি শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একটি কথা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। তা হলোÑ জনদুর্ভোগের কথা বলে অতিরিক্ত পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে না। আমাদের কৃষকরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। দেশে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ উঠতে বাকি আরও কয়েক মাস। এর আগে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়াতে হবে। কেউ মজুত করে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।

২০১২ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, সব ধরনের মসলা এবং খাবার লবণ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। সে অনুযায়ী এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মূল্য পর্যালোচনা করে ট্যারিফ কমিশন সরকারকে কৌশলগত পরামর্শ দিলে এসব পণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিয়মিত বাজার পরিবীক্ষণের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটিকে দায়িত্ব নিতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে মজুদ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়তে বাধ্য হবেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও তদারকির পাশাপাশি প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সচেতন করলে তারাও সহযোগিতা করবেন। বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয়, সে লক্ষ্যে অংশীজনরা দায়িত্বশীল হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..