সম্পাদকীয়

পেঁয়াজের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সম্প্রতি খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। স্মরণকালের মধ্যে দেশের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ। গত চার মাসে পেঁয়াজের বাজারে চলমান এই অস্থিরতার পেছনে বিভিন্ন কারণ সামনে এলেও প্রতারক চক্রের সিন্ডিকেটকেই এখন মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করছেন কেউ কেউ। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। জনসাধারণের এই নিত্য ভোগ্যপণ্যটি এখন দুর্লভ পণ্যে পরিণত হয়েছে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করতে পারে, এমন সতর্কতা আসার পরও সে সময়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারেও গাফলতি রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

দৈনিক শেয়ার বিজে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুল্কসহ মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৪২ টাকা। এই পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৫-৬০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করার কথা নয়। কিন্তু দোকানে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দামের তালিকা টাঙিয়ে ১১০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করার চিত্র প্রশাসনের নজরে পড়ে। চট্টগ্রামে এ রকম ১৩টি সিন্ডিকেট চিহ্নিত হয়েছে। পরশু দিন বাণিজ্যমন্ত্রীও স্বীকার করেন, পেঁয়াজের দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়। এদিকে কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ পচে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার দৃশ্যমান কর্মসূচি এতদিন তেমন একটা নজরে না পড়লেও বাণিজ্যমন্ত্রীকে অন্তত পাঁচবার কারসাজির অভিযোগ তুলতে দেখা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন আসে বাণিজ্যমন্ত্রী কেনই কেবল অভিযোগ তুলে ক্ষান্ত হবেন? তবে মিসর ও দক্ষিণ ভারত থেকে প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ কয়েক দিনের মধ্যে দেশে এসে পৌঁছার দাবি করেছেন তিনি। বাজারে কারসাজির কারিগরদের জিইয়ে রেখে পেঁয়াজ আমদানির মধ্যে কেমন সমাধান রয়েছে, সে বিষয়টি ধোঁয়াশাচ্ছন্ন থেকে যায়। আর গত চার মাসে ভোক্তার পকেট থেকে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা খোয়া গেছে বলে গত পরশু এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে ভোক্তা অধিকার-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশে ক্যাসিনোবিরোধী দ্রুত অভিযান চালিয়ে সরকার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের তাতে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা পেঁয়াজের বাজারের এই সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্যে আবারও দ্বিধান্বিত। তাই ভোক্তাসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে বাজারের কারসাজির কারিগরদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ আমদানিসহ নজরদারি কার্যক্রম ফলপ্রসূ হোক বলে আমরা আশা রাখি। কিন্তু বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জানুয়ারিতে নতুন পেঁয়াজ ওঠার আগে দাম খুব একটা কমবে না। এ অবস্থায় সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..