প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পেঁয়াজ নিয়ে যেন কারসাজি না হয়

দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে গত শনি, রবি ও সোমবারÑএ তিন দিন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও হঠাৎ কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে তা ৪০ টাকায় ঠেকেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে তৈরি প্রতিবেদনে বিক্রেতাদের বরাত দিয়ে আমাদের প্রতিনিধি বলছেন, দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ থাকলে দাম আরও বাড়বে। অবশ্য কেউ বলছেন, বৃষ্টির কারণে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তে পারে। ভরা মৌসুম হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত। তবু ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধের খবরে নড়েচড়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রেতাদের ধারণা ভারতের আমদানি বন্ধের খবরে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন। তারা শুধু দাম বাড়ানোর জন্য অজুহাত খোঁজেন। বাজারে পর্যাপ্ত দেশি পেঁয়াজ রয়েছে। এখন ভারতের পেঁয়াজ না হলেও সংকট হবে না।’ কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ নিয়ে নানা তেলেসমাতি চলছে। ভারতে মূল্য বৃদ্ধির খবরে কম দামে আনা পেঁয়াজও চড়া দামে বিক্রি শুরু করেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১০০ টাকার বেশি বাড়বে না। পরে দেখা গেল ৩০০ টাকায় ঠেকেছে। এবারও খোঁজ নিয়ে যাতে কেউ কারসাজি করতে না পারে এখন থেকেই করণীয় নির্ধারণে সক্রিয় হতে হবে।

কিছু ব্যবসায়ী শুধুই অজুহাত খোঁজেন। মওকা মতো দাম বাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায় সরকারকে কঠোর হতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ন্যায্য দামে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পেঁয়াজের আকালেও শত শত মন পচা পেঁয়াজ ফেলে দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। কেউ যেন মজুত করতে না পারে নিবিড় তদারকি করতে হবে। মজুতদারদের দৌরাত্ম্য রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবসায়িক অনুমোদন বাতিল করতে হবে। মজুত-প্রবণতা রোধে বড় আমদানিকারক-ব্যবসায়ীর গুদামগুলোয় নজরদারি করতে হবে। পেঁয়াজের আপৎকালীন মজুত গড়ে তুলে প্রয়োজনীয় সময়ে ভোক্তাসাধারণের কাছে সরবরাহ করার মাধ্যমে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি সহায়ক ভ‚মিকা রাখতে পারে। কম দূরত্ব ও সহজলভ্যতার কারণে পেঁয়াজ আমদানির বেশিরভাগ ভারত থেকে হয়, এটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। কিন্তু কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতা ঠিক নয়। অন্য দেশ যেমন চীন, মিসর, পাকিস্তানসহ পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিতে হবে।