সম্পাদকীয়

পেঁয়াজসহ মসলার দাম স্থিতিশীল রাখুন

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলে মসলার দাম বাড়ে প্রায় প্রতিবছর। কোরবানিতে মসলার অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা মাংস রান্নার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ প্রভৃতির দাম বাড়িয়ে থাকেন। অবশ্য অতিরিক্ত শুল্ক, বন্দর থেকে পণ্য খালাসে বিলম্বে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচও বাড়ে। এসব কারণে মসলার দাম বাড়লে সেটিকে যৌক্তিকই বলা যেতে পারে।
ঈদুল আজহায় প্রতি বছর মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর দৃষ্টান্ত থাকা সত্ত্বেও আগেভাগে ব্যবস্থা না নেওয়া ভোক্তাদের হতাশ করবে। ১৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর কারসাজি বন্ধে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আর বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বিভিন্ন উৎসবকে বেছে নেয়। আগামী কোরবানির ঈদ টার্গেট করে তারা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে।’
পাঠক লক্ষ করে থাকবেন, নতুন কিছু বলেননি মন্ত্রী। গতানুগতিক কথা বলেছেন তিনি। প্রতিবছরই যেহেতু উৎসব এলে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা, তাহলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কেন দাম বাড়ানোর পর ব্যবস্থা নিতে হবে। আগে ব্যবস্থা নিলে দাম হয়তো বাড়ত না।
গত এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়ে গেছে। দ্বিগুণ দামে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঈদুল আজহার এক মাসেরও কম রয়েছে। আমাদের অতিমুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা যেন আগেভাগেই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। হয়তো অন্যগুলোর দাম বাড়ানোর জন্য পাঁয়তারাও করছেন। সাধারণ মানুষ চাইবে উৎসব-পার্বণের আগেই দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিক সরকার।
এখন বড় বড় করপোরেট হাউজও ব্যাপকহারে মসলার ব্যবসা করছে। সিন্ডিকেট করে এসব প্রতিষ্ঠান যেন মসলার দাম বাড়াতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। মজুতদারদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতাও রোধ করতে হবে। এজন্য বড় ব্যবসায়ীর গুদামগুলোয় নদরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, মসলা আমদানিতে বেশি শুল্ক দিতে হয়। ফলে তা চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন আমদানিকারকরা। আমরা চাই না বৈধভাবে ব্যবসা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..