সম্পাদকীয়

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির সক্ষমতা বাড়ান

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতর গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রফতানি মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার বেঁধে দিয়ে একটি আদেশ জারি করে। দেশটিতে মূল্য বৃদ্ধির খবরে কম দামে আনা পেঁয়াজও চড়া দামে বিক্রি শুরু করেছেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। ভারতের বেঁধে দেওয়া দামে এখনও পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। ওই দামে আমদানির পর আবার নতুন করে দাম বাড়বে বলেই ধারণা। অথচ দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৫ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপরও দাম কমেনি বরং এক দিনে তিনবার দাম বাড়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ন্যায্য দামে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে একজন ক্রেতা দুই কেজি কিনতে পারছেন। কিন্তু এটি পেঁয়াজের বাজার মূল্যে প্রভাব ফেলেনি। এক্ষেত্রে সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও বেশি পরিমাণে ভোগ্যপণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করা গেলে তা বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।
ব্যবসায়ীরা অজুহাত পেলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও বলে আসছেন অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর কারসাজি বন্ধে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
দাম বাড়ানোর কারসাজি বন্ধে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে, টিসিবি ভর্তুকি দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। এ অবস্থায়ও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলেই প্রতীয়মান। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে গতকাল শেয়ার বিজ বলেছে, পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল।
সাধারণত ঈদ-উৎসব টার্গেট করে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে থাকেন। অনেক সময় মজুত করে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। এতে দাম বেড়ে যায়। তাই মজুত-প্রবণতাও রোধে বড় আমদানিকারক-ব্যবসায়ীর গুদামগুলোয় নজরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় সাত থেকে ১১ লাখ টন। টিসিবির কাজ হলো, নির্দিষ্ট নিত্যপণ্যের আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলে প্রয়োজনীয় সময়ে ভোক্তাসাধারণের কাছে সরবরাহ করার মাধ্যমে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখা। রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি এ দায়িত্ব কতটা পালন করছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কম দূরত্ব ও সহজলভ্যতার কারণে পেঁয়াজ আমদানির বেশিরভাগটা ভারত থেকে হয়, এটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। কিন্তু কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতা ঠিক নয়। অন্য দেশ যেমন চীন, মিসর, পাকিস্তানসহ পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিতে হবে।

সর্বশেষ..