সম্পাদকীয়

পেট্রোবাংলা থেকে রাজস্ব আদায়ে জটিলতার নিষ্পত্তি হোক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন বা পেট্রোবাংলার কাছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব দাবিনামা পেশ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এনবিআরের পাওনা রাজস্বের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এদিকে তহবিল সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছে পেট্রোবাংলা; অথচ নিয়মিত গ্রাহকের কাছ থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় করেও এনবিআরকে তা পরিশোধ করছে না। পেট্রোবাংলা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাহক ও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করবেÑএটাই স্বাভাবিক। অথচ বৃহৎ এ করদাতা প্রতিষ্ঠানটি কোন স্বার্থে বা পরিকল্পনামাফিক এমন নিয়মবহির্ভূত কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

রাজস্ব আদায়ের শ্লথগতির বিপরীতে বিনিয়োগ, উন্নয়ন আয় ও জিডিপির দ্রুত গতি দেশের অর্থনীতিতে একটি অসামঞ্জস্যের সৃষ্টি করেছে। ফলে এনবিআর একটি বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাজস্ব আদায়ে তাড়া অনুভব করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা শীর্ষ করদাতা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যারা কর ফাঁকি দিয়ে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। এনবিআরের এ উদ্যোগটি সামগ্রিক অর্থকাঠামোর বিচারে যৌক্তিক বলে মনে হয়। কেননা, রাজস্ব আদায়ের বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা মাথায় নিয়েই গত চার বছর ধরে এই বকেয়া আদায়ে এনবিআর অর্থ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় বুক অ্যাডজাস্টমেন্ট করেও সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু হিসাব-সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া, সাবেক অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সুরাহার সিদ্ধান্তও ফলপ্রসূ হয়নি। এদিকে পেট্রোবাংলা বলছে, তাদের আইওসির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনে বিইআরসিকে নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করতে হয়। ফলে তারা তহবিল ঘাটতির মধ্যে পড়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় গ্যাস কিনে নিয়ে দেশে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, বিভিন্ন বড় শিল্প-কারখানা এই গ্যাস নিয়ে নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে। এসব বিচারে পেট্রোবাংলার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম বিভিন্ন অর্থে বিতর্কিত। গ্রাহকের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে তারা রাষ্ট্রীয় তহবিলে না দিয়ে যে গ্যাস কিনছে, সেই গ্যাস সার্বিক জনগোষ্ঠীকে কতটা সুবিধা দিচ্ছেÑসেটা বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংকটগুলো নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠান বারবার বসা-বৈঠক করেছে, চিঠি চালাচালি হয়েছে। উভয়ই সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সমস্যা সমাধানে অন্য মন্ত্রণালয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারের বৈঠকেই পেট্রোবাংলার বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সাব্যস্ত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় পেট্রোবাংলার অনাদায়ী রাজস্ব আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই যুক্তিযুক্ত হবে।

সর্বশেষ..