দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

পেনশনের আওতায় আসবেন সব নাগরিক: পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকসহ দেশের সব নাগরিককে পেনশনের আওতায় নিয়ে আসার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার মানুষও পেনশনের আওতাভুক্ত হবে। সার্বিকভাবে পেনশন ব্যবস্থা করা জটিল কিছু নয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য পেনশন স্কিমের কাজ চলছে। গতকাল বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্রাব) প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভা, মরণোত্তর সম্মাননা ও সন্তানদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অগ্রসর মানুষ। তারা আমাদের ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দেন। তারা সমাজের আয়না। তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেনশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও পেশাবান্ধব। তবে কোথাও কখনও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও সার্বিকভাবে সরকার পেশার পক্ষেই কাজ করে। সাংবাদিকদের কাজে  ঝুঁকি শুধু নয়; ভয়ঙ্কর ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাদের জন্য ঝুঁকি তহবিল কীভাবে করা যায়, সেটি ভেবে দেখা হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের যে কল্যাণ তহবিল, যেটা আছেÑসেটি কীভাবে আরও প্রসারিত করা যায়, বরাদ্দ বাড়ানো যায়; সেটি দেখা হবে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাবের সভাপতি মিজান মালিক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি ও ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী। বক্তব্য রাখেন, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ও আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আজহার মাহমুদ, সিনিয়র সদস্য গাফ্ফার মাহমুদ, ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ এবং ক্রাবের প্রয়াত সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, অনেক বিষয় বাইরে থেকে চাকচিক্য দেখি। কিন্তু ভেতরে অবস্থা যে কত করুণ ও দুর্বিষহ সেটা আমরা দেখতে পাই না। এখানে এসে অনেক কিছুই জানা হলো। আপনারা প্রয়াত সদস্যদের কথা মনে রেখেছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন; এটা অনেক বড় স্বীকৃতি ও অনেক বড় পাওয়া। মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা পেশা আলোচিত ও সম্মানের পেশা। সাহসের পেশা। কলম সবার কাছেই আছে, কিন্তু  সাহস সবার নাও থাকতে পারে। আমরা গণতান্ত্রিক পর্যায়ে দেশ চালাচ্ছি। বাস্তব জীবন বড় কঠিন। আমরা দাবি করছি কল্যাণমূলক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করছি। কিন্তু বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে এটি পরিপূর্ণ সমাজ বাস্তবায়ন সম্ভব। তাই আমি মনে করি সাংবাদিক বিশেষ করে ক্রাইম রিপোর্টার যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেখেন তাদের ঝুঁকি ভাতা থাকা উচিত।

ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিক বলেন, আমাদের জনঝুঁকি ভাতা চালু ও ক্রাইম রিপোর্টার যারা লেটনাইট করেন, তাদের জন্য বিশেষ ভাতার চালু করার জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা আজ যাকে এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে পেয়েছি তিনি একজন সজ্জন, সৎ ও গণমাধ্যমবান্ধব ব্যক্তিত্ব। আমরা তার কাছে ঝুঁকি ভাতা ও আমাদের জন্য বিশেষ একটি কল্যাণ তহবিলের বিষয়ে সহযোগিতা চাচ্ছি। স্বাগত বক্তব্যে ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ বলেন, সাধারণত নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। আমরা সেটা না করে আমাদের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ করেছি। সীমিত সাধ্যের মধ্যে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। কারণ ক্র্যাব এমন একটি সংগঠন যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সিসাঢালা প্রাচীরের মতো। কার বাসায় কি রান্না হয়, কার বাসার তরকারিতে লবণ কম হয়েছে, সেটাও ক্র্যাব সদস্যরা খবর রাখেন। তিনি ক্র্যাবের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে সবার সহযোগিতা চান। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..