প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পোলট্রি খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন

দেশে নিন্ম ও নিন্মমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে পোলট্রি খাত অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। মাথাপিছু মাংস গ্রহণে দেশে বরাবরই ঘাটতি ছিল। এখন কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বৈকি। এ ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে দেশের পোলট্রি খাত। এ খাত একদিকে যেমন নাগরিকদের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে এ খাতে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই এ খাত কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘খাদ্যের দাম বাড়ায় হুমকিতে পোলট্রি খামারিরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ১০০ টাকা। কোনো কোনো কোম্পানি কেজিপ্রতি আড়াই টাকা বাড়িয়েছে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেবল রাজশাহী নয়, বর্তমান অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে দেশের কোনো স্থানে একটি পণ্যের দাম বাড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সারাদেশেই সেই নির্দিষ্ট পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে। পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চাল প্রভৃতি পণ্যের ক্ষেত্রে এমন চিত্র বারংবার পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত বাজার ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত পরিবীক্ষণ না থাকার সুযোগে এমনটি হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, উৎপাদনকারী কোম্পানি খাদ্যের প্যাকেটের গায়ে যে সর্বোচ্চ খুচরা দাম লিখে দেয়। বাজারে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে তা বিক্রি হতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত সিন্ডিকেট এমনটি করে থাকে। রাজশাহীর পোলট্রি খামারিরাও এমন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। অথচ একটি দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা কাঠামো জোরদার করার মাধ্যমে সিন্ডিকেটের এমন দৌরাত্ম্য নির্মূল করা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়।

কেবল পোলট্রি খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে যে খামারিরা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ছেন তা নয়, তাদের উৎপাদিত মুরগি ও ডিম বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও তারা নানাভাবে ঠকছেন। এখন বাজারে ফার্মের মুরগি ও ডিমের দাম সর্বোচ্চ। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন যে, খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। তাই খামারিরাও মুরগি ও ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এ বাড়তি দামের হিস্যা পাচ্ছেন না খামারিরা। এখানেও সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেট ফায়দা লুটে নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খামারি ও ভোক্তাদের সুবিধার্থে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই বিশ্বাস।