সম্পাদকীয়

পোশাকশিল্পে রফতানি কমে যাওয়া হতাশাজনক

বর্তমানে রফতানি আয়ের বড় উৎস হওয়ায় পোশাক মালিকরা রাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন সুবিধা পান, চাপ দিয়ে আদায়ও করে নেন। কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে রফতানি পর্যন্ত সব পর্যায়েই এ খাত বিভিন্ন সুযোগ পায়। বিপুল কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের স্বার্থে এ খাত অবশ্যই সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব পাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু এত সুযোগ-সুবিধার পরও এ খাতে রফতানি কমে যাওয়া হতাশাজনক।
পোশাক মালিকরা সরকারকে দেওয়া করের চেয়ে অনেক বেশি নগদ সহায়তা নেন। অন্য খাতের শিল্প মালিকরা যে কর দেন, তার এক-দশমাংশও পোশাক খাত থেকে সরকার পায় না। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে ‘আবারও করছাড় পাচ্ছেন তৈরি পোশাক মালিকরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়েছে, বাজেট পাসের তিন মাসের মাথায় আবারও করছাড় পাচ্ছেন তৈরি পোশাক মালিকরা। তাদের উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনবিআরকে সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও পোশাক ব্যবসায়ীদের উৎসে কর ও করপোরেট কর কমানো হয়েছে। এবারের বাজেটে পোশাক রফতানির ওপর উৎসে কর এক শতাংশ করা হয়। তবে বাজেটের পর তৈরি পোশাক মালিকরা উৎসে কর কমাতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি তা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
সর্বাপেক্ষা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে পোশাকশিল্প নিঃসন্দেহে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। অথচ প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহার করছেন না তারা। পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানির আয়কর দেন ব্যক্তিশ্রেণিতে। প্রতিষ্ঠানের গাড়িসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করলেও সেটির উৎস দেখানো হয় না। করপোরেট প্রতিষ্ঠান বার্ষিক আয়ের ওপর সর্বোচ্চ সাড়ে ৪২ শতাংশ কর দিলেও পোশাকশিল্প নামমাত্র কর দেয়। শতভাগ রফতানিমুখী পোশাক কারখানা বন্ড সুবিধার আওতায় সুতা, কাপড়সহ কাঁচামাল আনতে কোনো শুল্ক দেন না মালিকরা। বন্ড সুবিধার অপব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য রফতানিমুখী চামড়াশিল্পকে বন্ড সুবিধা দেওয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় অনেক ক্ষেত্রেই উদাসীনতার পরিচয় দেন পোশাক মালিকরা। তাদের অবহেলায় স্পেকট্রাম গার্মেন্ট ও রানা প্লাজা ধস, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পোশাকশিল্প চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। বাজার হারাতে বসে পোশাকশিল্প। ভবনের ভিত্তি, অগ্নিনিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসে বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ও অ্যাকর্ড। এরপর বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও পোশাক মালিকরা কর্মপরিবেশ উন্নত ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়ার দায়বদ্ধতা প্রমাণে সক্ষম হননি বলেই ধারণা। যাহোক, পোশাক মালিকরা সরকারের দেওয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করে রফতানি বাড়াতে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..