প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পোশাক খাতের ক্ষতিতে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নকে ভালোভাবে দেখছে না। এ কারণে পোশাক খাতের ক্ষতি করতে ‘অদৃশ্য শক্তি’ কাজ করছে, যার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শ্রমিকরা আকস্মিকভাবে দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। তবে এবার তাদের কিছুই দেওয়া হবে না। এভাবে দাবি আদায় হলে তারা রাস্তায় বারবার নামতেই থাকবে।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’-এ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। আশুলিয়ার শ্রমিক অসন্তোষকে দুর্ভাগ্যজনক অভিহিত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ খাতকে পিছিয়ে দিতে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর পেছনে অদৃশ্য শক্তি আছে।
মন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনস, হলি আর্টিসানের ঘটনায় বাংলাদেশের পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক একটি অঘটন কাটিয়ে উঠতে না উঠতে নতুন সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায়। আশুলিয়া এর সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে বেশ কয়েক দফা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হলেও তারা আলোচনা ছাড়াই রাজপথে নেমেছে। কিন্তু এবার বিজিএমইএ বলেছে, তারা কোনো ছাড় দেবে না। সরকার তাদের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।
তোফায়েল আহমেদ জানান, আশুলিয়ায় ৯০টিরও বেশি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। এরা দোকান খুলে বসেছে। শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চঁাঁদা সংগ্রহ করে। এসব সংগঠনের নেতারা অনেকে টাকার মালিকও হয়ে গেছে। এরাই পোশাক খাতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় বৈঠকে শ্রমিক নেতারা বললেন কাল থেকে কারখানা চলবে। তারা সেখানে বলেছেন কিছু অদৃশ্য শক্তি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়েন। আমরা বললাম, সেই অদৃশ্য শক্তি কারা? তারা নাম বললেন না। পুলিশের আইজি ছিলেন, র?্যাবের প্রধান ছিলেন তাদের বললাম অদৃশ্য শক্তিকে খুঁজে বের করেন।’
কারখানাগুলো কবে খোলা হতে পারে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিজিএমইএর সঙ্গে আলোচনা করে এটা সিদ্ধান্ত হবে। একটা সমঝোতা করতে হবে। তবে এবার বিজিএমইএ তাদের কিছু দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না। এভাবে আকস্মিকভাবে দাবি আদায়ে রাস্তায় নামা হয়, তাহলে রাস্তায় বারবার নামতেই থাকবে। একটা পদ্ধতির মধ্যে আসতে হবে।
গতকাল এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ নবনির্বাচিত সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা। এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানীসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।