দিনের খবর প্রথম পাতা

পোশাক রফতানিতে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান পাবে ১% প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৈরি পোশাকশিল্পকে সহায়তা ও বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে আগ্রহী করতে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানকে চার শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এবার বড় আকারের প্রতিষ্ঠানকেও রফতানি প্রণোদনা এক শতাংশ হারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজীকৃত তৈরি পোশাকের বিপরীতে রফতানিকারকদের বিশেষ রফতানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা পেতে হলে তৈরি পণ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন হতে হবে।
প্রসঙ্গত, মূল্য সংযোজন হচ্ছে কোনো পণ্য তৈরিতে স্থানীয় শ্রম, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ সুবিধা নিতে হলে ১০০ টাকার তৈরিকৃত পণ্যে কমপক্ষে ৩০ টাকার উপকরণ দেশীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
ইউরোপ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানিতে ইজেড, ইপিজেডে অবস্থিত দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সুবিধা নিতে পারবে। তবে ডিউটি ড্র-ব্যাক/বন্ড সুবিধা একসঙ্গে গ্রহণ না করার শর্ত প্রযোজ্য হবে না। নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে নিট এফওবি (ফ্রেইট অন বোর্ড) মূল্যের ওপর এক শতাংশ হারে উৎপাদনকারী-রফতানিকারকরা বিশেষ নগদ সহায়তা পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, কোনো ব্যাংক নির্দেশিত শর্তের বাইরে গিয়ে বা অনিয়মের আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত হিসাব থেকে সুবিধা দেওয়ার সমপরিমাণ অর্থ কেটে রাখবে। ব্যাংক ও কর্মকর্তাদের জরিমানা এবং শাস্তি দেবে। সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট ফরমে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে, রফতানি বাণিজ্য উৎসাহিত করতে দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে চার শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবেন রফতানিকারকরা। তৈরি পোশাক খাতের অন্তর্ভুক্ত সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত চার শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
বস্ত্র খাতের রফতানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপ ব্যতীত নতুন বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করতে চার শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবেন। ইউরোপের বাজারে রফতানিতে বিদ্যমান চার শতাংশের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা হিসেবে আরও দুই শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ সুবিধাও দেওয়া হবে চলতি অর্থবছরের জন্য। সব জাহাজীকৃত পণ্যের বিপরীতে দেওয়া হবে এসব সুবিধা।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..