সম্পাদকীয়

পোশাক রফতানিতে মূল্য সংযোজন হোক শতভাগ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের বিশাল ভূমিকার কথা কারও অজানা নয়। ৩০ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মোট রফতানিতে এ খাতের অবদান ৮৪ শতাংশ। অবশ্য পোশাক খাতের মূল্য সংযোজন নিয়ে হতাশা ছিল দীর্ঘদিন। কারণ কাঁচামালের বিরাট অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। আশার কথা হলো, এখন মূল্য সংযোজন বাড়ছে। দেশেই এখন তৈরি পোশাকের কাঁচামালের বিরাট অংশ উৎপাদন হচ্ছে। সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এখন মূল্য সংযোজন শতভাগ করার লক্ষ্য পূরণে চেষ্টা প্রয়োজন।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘পোশাক রফতানিতে সর্বোচ্চ মূল্য-সংযোজন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। খবরটিতে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাঁচামাল আমদানি বিবেচনায় তৈরি পোশাক রফতানিতে মূল্য-সংযোজন হয়েছে ৬৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে মূল্য-সংযোজন ছিল ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গার্মেন্ট খাতের জন্য এটি দারুণ খবর নিঃসন্দেহে। এখন মূল্য সংযোজনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।
তৈরি পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস হলেও এর বড় অংশ চলে যায় কাঁচামাল আমদানিতে। কাঁচামাল দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতের মূল্য-সংযোজন বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সে অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সর্বোচ্চ মূল্য-সংযোজন আশাবাদী হওয়ার মতো খবর নিঃসন্দেহে। তবে মনে রাখতে হবে, এখনও ৩৫ শতাংশের বেশি ঘাটতি রয়েছে। এটি পূরণে আরও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব কাঁচামাল এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, তা দেশেই উৎপাদনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মূল্য সংযোজন শতভাগ করতে পারলেই গার্মেন্ট খাত সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে বলে আমরা মনে করি।
পোশাক রফতানির ওপর আমাদের অর্থনীতির বিশাল নির্ভরতা রয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগেরও বটে। কারণ তৈরি পোশাকের বাইরে তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য রফতানি পণ্য আমরা তৈরি করতে পারছি না। ফলে কোনো কারণে গার্মেন্ট খাত ব্যর্থ হলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাক খাতে শক্ত প্রতিযোগী ক্রমেই বাড়ছে। সে জন্য এ খাতে শতভাগ মূল্য সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি রফতানি বাজার আরও সুসংহত করতে হবে। নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি চামড়া, হিমায়িত খাদ্য, মাছ, কৃষিপণ্যসহ অন্য যেসব পণ্য রফতানি বৃদ্ধির দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, রফতানিতে একক পণ্য নির্ভরতা ঝুঁকি বাড়াবে বৈ কমাবে না।

সর্বশেষ..