Print Date & Time : 25 October 2021 Monday 11:39 pm

‘প্যানিক সেলে’ সূচকের বড় পতন

প্রকাশ: September 14, 2021 সময়- 11:24 pm

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ : এক দিনের বিরতি দিয়ে পুঁজিবাজারে আবার বড় পতন হয়েছে। দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৭৭ পয়েন্ট বা এক শতাংশের বেশি কমতে দেখা গেছে। দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয়েছে সাত হাজার ১৪০ পয়েন্ট। এক দিনের ব্যবধানে এ ধরনের পতন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে দর সংশোধন বললেও অনেকের মতে কিছু গুজবের কারণে প্যানিক (আতঙ্কিত) হয়ে শেয়ার সেল করেছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলশ্রুতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কয়েকটি কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। ফলে তারা শেয়ার ও ইউনিট বিক্রি করেছেন। এ কারণে বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ৪০-ঊর্ধ্ব পিই-রেশিও থাকা কোম্পানির অবস্থা খতিয়ে দেখা।  সম্প্রতি যেসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই-রেশিও ৪০-এর বেশি রয়েছে, সেগুলোর কারণ অনুসদ্ধান করতে বলেছে বিএসইসি। এসব কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৪০-এর বেশি পিই-রেশিওধারী কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করতে। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে ৪০-এর বেশি পিই রেশিওর কোনো কোম্পানিকে বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য করে মার্জিন ঋণ দেয়া হচ্ছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে বিএসইসির চিঠিতে।

হাউস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের প্যানিক তৈরি হয়েছে। তাই এ ধরনের শেয়ারের দর পতন হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির সার্বিক অবস্থা যাচাই ও করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এটি দুই স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বেলায় প্রযোজ্য। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে স্বল্পমূলধনি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উভয় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৭টি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে রয়েছে। তাদের সার্বিক আর্থিক অবস্থাও যাচাই করে দেখা হবে। পাশাপাশি ওই কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন একটি মানসম্পন্ন জায়গায় আনার বিষয়ে কাজ করা হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বিকল্প কিছু করা যায় কি না, তাও চিন্তা-ভাবনা করে দেখবে কমিশন।

এ ইস্যুতে অনেক বিনিয়োগকারী ভেবেছেন তাদের কাছে থাকা এ ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাবে। এজন্য তারা শেয়ার সেল করে দিয়েছেন। এ কারণে বিক্রয় চাপ তৈরি

 হয়েছে। ফলে সূচক নি¤œমুখী হয়েছে। এছাড়া নতুন করে চারটি কোম্পানির শেয়ার ইস্যু করতে হবে। এতে শেয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমে যেতে পারে এমন ভীতি ছিল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বিডি সান লাইফ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের এভিপি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি কারণে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ভীতির মধ্যে ছিলেন। এ কারণে তারা শেয়ার সেল করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ভয়ের কোনো কারণ নেই। বাজার পরিস্থিতি এখনও ভালো রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের কেন ভীতু হতে হবে?

একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বাজার দীর্ঘদিন ভালো রয়েছে। গতকাল বাজারে যেটা ঘটেছে তা দর সংশোধন ছাড়া কিছু নয়। বিনিয়োগকারীরা যদি কোনো কারণে প্যানিক হয়ে থাকেন সেটা তাদের ভুল ধারণা। বাজারের সূচক শুধু পরের দিকে উঠবে এটা তো স্বাভাবিক বাজারের লক্ষণ হতে পারে না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বাজার এখনও ভালো রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কিছু নেই। তবে তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বাজারে ফোর্সসেল হচ্ছে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই।