প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন কার্যকর হোক

বড় অবকাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণের প্রকল্পে কাজের ধীরগতিতে ব্যয় বৃদ্ধি স্বাভাবিক। কোনো প্রকল্প যখন পাস হয়, তখন নির্মাণসামগ্রী পরিবহনব্যয়, কর্মীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিকের সম্ভাব্য হিসাব ধরে প্রকল্পব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কাজে ধীরগতি দীর্ঘসূত্রতায় পর্যবসিত হলে ব্যয় অনেক বাড়ে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শেষ হতে ১০ বছর লেগে যাওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর দাম, পরিবহন খরচ ও কর্মীদের বেতন-ভাতা এক জায়গায় থাকেনি। বছর বছর তা বরং বেড়ে যায়। এতে নির্মাণব্যয়ও বাড়ে।

দেশে খুব কম প্রকল্পই আছে, যেগুলো টেকসই মানের নিশ্চয়তা বিধানপূর্বক যথাসময়ে শেষ হয়েছে। কোনো প্রকল্পের নির্মাণকাজ একাধিকবার উদ্বোধনেরও দৃষ্টান্ত আছে। আবার মাঝে মধ্যে অসমাপ্ত রেখেই শেষ করা হয় নির্মাণকাজ। বাকি কাজ শেষ করতে নিতে হয়Ñ‘অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প’।

গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নির্মাণ-পরবর্তী অবস্থা পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য ১৫ দফা অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের প্রধান বিষয় হলো যাচাই-বাছাই ছাড়া নেয়া যাবে না উন্নয়ন প্রকল্প; জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া অন্য প্রকল্প অনুৎসাহিত করতে হবে; নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; প্রকল্পে ত্রুটি থাকলে দায়ী থাকবেন সংশ্লিষ্টরা, তাদের জবাবদিহি করতে হবে ও ত্রুটি প্রমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে; প্রকল্প শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে গাড়ি জমা দিতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন-সংক্রান্ত চিঠি সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েও। আমাদের দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে যা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা ইতিবাচক নয়। অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সবার কাছেই সময়োপযোগী ও যথার্থ বলে বিবেচিত হবে। আমরা এও বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন এড়িয়ে যাওয়ার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস কারও নেই। তাই আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রকল্পের নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনে বিশেষায়িত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট সময়ে অন্তর সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেবে।

দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির খবর সবার জানা। কিন্তু তা যে আমাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে পারেনি, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে চলেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় দেশের কী পরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য নেই। তবে এটি যে নগণ্য নয়, তাতে সন্দেহ নেই। যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পে নির্মাণব্যয় বেড়ে যাওয়া থামাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেই আমরা মনে করি। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনাও জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন প্রতিপালনে আন্তরিক হলে দেশে অনিয়ম-দুর্নীতিতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব।